ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী শশী লজ: সংরক্ষণে জোর, পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা
ডেক্স রিপোর্টার:
বাংলার
জমিদার আমলের ঐতিহ্য বহনকারী শশী লজ, যা ‘ময়মনসিংহ রাজবাড়ি’ নামেও পরিচিত, আজও
ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত। ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল
আন্তঃজেলা সড়কের পাশে জেলা পরিষদ ভবনের সংলগ্ন এলাকায়, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী
শহরের কেন্দ্রস্থলে এর অবস্থান।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা
জমিদার পরিবারের মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী ১৮৮০-এর দশকে প্রায় ৩.৬৪ হেক্টর
জমির ওপর এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন। তবে ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভবনটির ব্যাপক
ক্ষতি হলে পরবর্তীতে তাঁর পালিত পুত্র জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী এটি
পুনর্নির্মাণ করেন। তার নামানুসারেই ভবনটির নামকরণ হয় ‘শশী লজ’।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে শশী লজ একটি
অনন্য নিদর্শন। এতে ইউরোপীয় ও দেশীয় নকশার অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায়।
অর্ধবৃত্তাকার প্রবেশদ্বার, সবুজ লন, মার্বেল ফোয়ারা, পুকুরঘাট, সুসজ্জিত বলরুম,
রঙিন কাঁচের জানালা ও ঝাড়বাতি—সব মিলিয়ে এটি জমিদারি আমলের
আভিজাত্যের এক জীবন্ত স্মারক। প্রাসাদ চত্বরে রয়েছে মনোরম বাগান ও পুকুর, যা
দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর ভবনটির
ব্যবহার পরিবর্তিত হয়। একসময় এটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও
বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এখানে একটি জাদুঘর স্থাপন করা
হয়েছে। ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ শহরের পুরনো জাদুঘর জীর্ণদশায় পড়লে সেখানকার
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এখানে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে জাদুঘরটিতে
সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক সামগ্রী প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীকে আকর্ষণ
করছে।
তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পর্যাপ্ত
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির কিছু অংশ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা
জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ, সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে শশী
লজকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি
স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এই প্রাচীন স্থাপনাটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের
জন্য সংরক্ষণ করতে—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।