মালয়েশিয়ায় চাকরির কথা বলে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

 প্রকাশ: ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন   |   খুলনা

মালয়েশিয়ায় চাকরির কথা বলে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

খুলনা ব্যুরো :

খুলনায় ছয়জনকে মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে মো. পলাশ আলী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি অর্থ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই খুলনা জানায়, খুলনা নগরের লবণচরা থানার ঠিকরাবাদ এলাকার আলাউল কবির খাঁর সঙ্গে পবিত্র মজুমদারের মাধ্যমে পলাশ আলীর পরিচয় হয়। পলাশ মালয়েশিয়ায় ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বললে আলাউল কবির তাঁর ছয় নিকটাত্মীয়কে বিদেশে পাঠানোর জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

প্রত্যেককে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরির জন্য অগ্রিম অর্থ দাবি করেন পলাশ। এরপর বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তাঁকে মোট ১৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

পরে চাকরিপ্রার্থীদের ঢাকায় নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন পলাশ। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের বিদেশে পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তিনি।

গত ১৫ আগস্ট পলাশ আলাউল কবিরের বাড়িতে গিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মালয়েশিয়ায় পাঠাতে পারবেন না এবং নেওয়া টাকাও ফেরত দিতে পারবেন না বলে জানান। এরপর আলাউল কবির লবণচরা থানায় পলাশসহ দুজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। ২৩ আগস্ট করা মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই খুলনা তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. হাবিবুর রহমান তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পলাশের অবস্থান শনাক্ত করেন।

পরে পিবিআই খুলনার একটি দল গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে দুইটার দিকে ময়মনসিংহ সদর থানার গোলপুকুরপাড় এলাকার কর অঞ্চল ভবন থেকে পলাশ আলীকে গ্রেপ্তার করে।

পিবিআই বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি দোষ স্বীকার করেন।

পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, আর্থিক অস্বচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্তও অব্যাহত রয়েছে