আদালতের স্থিতাবস্থা, তবুও জমিতে বালু ভরাটের অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের

 প্রকাশ: ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন   |   খুলনা

আদালতের স্থিতাবস্থা, তবুও জমিতে বালু ভরাটের অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের

খুলনা ব্যুরো :

খুলনার লবণচরা থানাধীন বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গা মৌজায় বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আদালতে মামলা চলমান এবং সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ থাকার পরও ওই জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাটের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মো. ওমর ফারুক।

শনিবার ২৯ আগষ্ট খুলনায় সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

ওমর ফারুক জানান, তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত দাউদ আলী শেখ ১৯৮৩ সালের ২৩ নভেম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গা মৌজায় ১৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তিনি ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। জমিটির সিএস খতিয়ান নম্বর ১০৬, এসএ খতিয়ান ১৬৫ এবং বিএস খতিয়ান ১৭০। জমির শ্রেণি বিলান।

বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ ভাই-বোন ওয়ারিশসূত্রে ওই সম্পত্তির মালিকানা ভোগ করছেন এবং নিয়মিত সরকারি কর-খাজনা পরিশোধ করছেন বলে দাবি করেন ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, ওই সম্পত্তি নিয়ে একটি দেওয়ানি মামলা বর্তমানে উচ্চ আদালতে রিভিশন পর্যায়ে চলমান রয়েছে যার নং ২৫৫৫ /২০২৪। মামলায় উচ্চ আদালত ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন।

ওমর ফারুকের অভিযোগ, আদালতের ওই আদেশের পরও বিবাদীপক্ষ তাঁর ভোগদখলীয় জমিতে বালু ভরাটের প্রস্তুতি হিসেবে বালুর পাইপ সংযোগ দিয়েছে। যেকোনো সময় জোরপূর্বক বালু ভরাট করে জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও বিবাদীপক্ষ বিষয়টি মানতে রাজি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ওমর ফারুক আরও বলেন, বিবাদীপক্ষ কখনো ওই জমির ভোগদখলে ছিল না এবং জমিটির মালিকও নয়। তিনি জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, ১৩০ শতাংশ জমির কিছু অংশ রাস্তা নির্মাণের কারণে চলে গেছে। অবশিষ্ট প্রায় ১০৭ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করা হয়। চলতি মৌসুমে জমিতে ‘রানী সেলুট’ জাতের ধান রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু জমিতে বালু ভরাটের কারণে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওমর ফারুক বলেন, তাঁরা পাঁচ ভাই-বোনের পরিবার। তিনি একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। তাঁর দুই বোন চিকিৎসক এবং অন্য দুই বোনের একজন ঢাকায় ও অপরজন জার্মানিতে বসবাস করেন। পরিবারের সদস্যরা কোনো ধরনের ঝামেলায় জড়াতে চান না—এ সুযোগ নিয়ে তাঁদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

তিনি আরও দাবি করেন, অবসরপ্রাপ্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগীরা কয়েক দফায় জমিটি তাঁদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু বাবার স্মৃতি হিসেবে সম্পত্তিটি ধরে রাখতে তাঁরা বিক্রির প্রস্তাবে রাজি হননি। এরপর থেকেই জমি দখলের জন্য বালু ভরাটের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওমর ফারুক জানান, জমিতে বালু ভরাটের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর শ্বশুর সাত্তার শেখ লবণচরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে গত ১৯ আগস্ট খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।

ওমর ফারুক বলেন, ‘আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। অথচ স্বাধীন দেশে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ থাকার পরও কীভাবে একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগীরা এভাবে জমিতে বালু ভরাট করতে পারেন, সেটিই আমার প্রশ্ন।’

তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে জমিতে বালু ভরাট বন্ধ, দখলের অপচেষ্টা রোধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বা তাঁর সহযোগীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।