মোরেলগঞ্জে মৎস্য ঘের দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

 প্রকাশ: ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন   |   খুলনা

মোরেলগঞ্জে মৎস্য ঘের দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
খুলনা ব্যুরো :

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৪৮ বিঘার একটি মৎস্য ঘেরের দখল ও মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত চারজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং তিনজনকে বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে নাজিম মাহমুদ জুয়েল (৪৫), মাহবুব জমাদ্দার (৫০), লিটন সরকার (৪৫) ও জুয়েল চৌকিদার (৩০) গুরুতর আহত হন। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রাজীব হাওলাদার (২৫), মারুফ হাওলাদার (২৭) ও শহিদ হাওলাদার (৫০) বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত মাসুদ শেখ রিদয় (২৭), এনায়েত ফকির (৩৮), ইব্রাহিম খলিল (২৮), সুজন তালুকদার (২৫) ও সুমন তালুকদার (৪০) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ঘেরের মালিকানা নিয়ে বিরোধে থাকা নাজিম মাহমুদ জুয়েল বলেন, রাকিব হাওলাদারের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ঘেরে হামলা চালায়। এতে তাঁদের পক্ষের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

তবে জুয়েলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকিব হাওলাদার। তাঁর দাবি, জুয়েলের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ঘেরে হামলা করে মাছ লুটের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাঁরা ঘেরের একটি টিনের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন বহিরাগতদের ধাওয়া করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৪৮ বিঘার ওই মৎস্য ঘেরের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে অতীতেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

সংঘর্ষে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা থাকলেও তাঁদের দলীয় পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃষ্ণপদ সরকার বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।