খুলনায় কিশোরীকে ধর্ষণ: দুই আসামির যাবজ্জীবন
খুলনা ব্যুরো :
খুলনায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাঁদের।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে খুলনার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন এ রায় দেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইকবাল মাহমুদ।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন দৌলতপুর থানার কুলিবাগান রেল কলোনি বস্তির বাসিন্দা হিরু এবং একই বস্তির নজু খাঁ। হিরু রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. সুলতানের ছেলে এবং নজু খাঁ ফরমান খাঁর ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে সে কুলিবাগান রেল কলোনি বস্তির বাসায় বসে হাত-পায়ের নখ কাটছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত তার পা কেটে যায়। পায়ে ওষুধ লাগানোর জন্য সে পাশের বাসায় থাকা নজু খাঁর কাছে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বাসায় তখন হিরুও উপস্থিত ছিলেন। নজু খাঁ ওষুধ নেই বলে জানিয়ে কিশোরীকে চলে যেতে বলেন। বের হওয়ার সময় তাঁরা হাত টেনে তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। পরে দুজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার সময় কিশোরীর মা বাড়িতে ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে মেয়েকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। ঘটনার চার দিন পর কিশোরীর মা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় নজু খাঁ ও হিরুকে আসামি করা হয়।
পুলিশের এসআই শফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরের ৩০ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো।