সংবাদ শিরোনাম

মেলায় নজর কাড়ছে ‘বারোমাসি লিচু’ শেষ সময়ে বৃক্ষমেলায় ক্রেতার ভিড়, বিক্রি ৮৭ লাখ টাকার বেশি

 প্রকাশ: ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন   |   খুলনা

মেলায় নজর কাড়ছে ‘বারোমাসি লিচু’  শেষ সময়ে বৃক্ষমেলায় ক্রেতার ভিড়, বিক্রি ৮৭ লাখ টাকার বেশি

মাসুদ আল হাসান,খুলনা :

সার্কিট হাউস মাঠজুড়ে নানা জাতের গাছের সমারোহ। কোথাও ফলদ, কোথাও ঔষধি, আবার কোথাও শোভাবর্ধনকারী গাছ। তবে শেষ মুহূর্তে খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের বিশেষ কৌতূহলের কেন্দ্রে উঠেছে একটি গাছ—‘ফোর সিজন লংগান’। মেলায় আসা অনেকেই গাছটি দেখতে ভিড় করছেন গোলাপ কানন নার্সারির স্টলে। বিক্রেতারাও বলছেন, অন্যান্য গাছের পাশাপাশি বারোমাসি লংগানের চাহিদা এবার বেশ ভালো।

মেলায় ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের লংগান গাছ সাজিয়ে রাখা হয়েছে স্টলে। গাছের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ ফল ধরার সময়, কেউ চাষপদ্ধতি, আবার কেউ গাছের দাম সম্পর্কে জানতে চাইছেন। টব কিংবা ছাদে চাষ করা যায়—এমন তথ্য শুনে নগরবাসীর আগ্রহও বাড়ছে।

ফোর সিজন লংগান বা বারোমাসি লংগান মূলত লংগান ফলের একটি উন্নত জাত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর চাষ ব্যাপক। বিশেষ করে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে জাতটি জনপ্রিয়। সাধারণ লংগান বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ফল দিলেও উপযুক্ত পরিচর্যা ও পরিবেশ পেলে ফোর সিজন লংগান বছরে একাধিকবার ফল দিতে পারে। এ কারণেই দেশেও ফলপ্রেমী ও ছাদবাগানিদের কাছে জাতটি আগ্রহ তৈরি করেছে।

বাগান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, লংগানের স্বাদ অনেকটা লিচুর মতো হলেও এটি বেশ মিষ্টি ও সুগন্ধি। ফলের শাঁস পুরু ও রসালো এবং ভেতরের বীজ শক্ত। কলমের চারা সাধারণত ৩৫০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। বড় আকারের ফলধারী প্রস্তুত চারা জিও ব্যাগসহ ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গাছের আকার, বয়স ও জাতের মান অনুযায়ী দামের পার্থক্য রয়েছে।

নার্সারি সংশ্লিষ্টরা জানান, উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এ গাছ বছরে তিন থেকে চারবার ফল দিতে পারে। বাড়ির আঙিনা ছাড়াও টব ও ছাদবাগানে সহজেই চাষ করা যায়। চারা লাগানোর পর তুলনামূলক অল্প সময়ের মধ্যেই ফল ধরায় শখের বাগানিদের কাছে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

এদিকে শুধু বারোমাসি লংগান নয়, এবারের বৃক্ষমেলায় বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারাও বিক্রি হচ্ছে। শেষ দিকে এসে মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর চাপ বেড়েছে।

মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে মেলা জমে উঠেছে। ক্রেতা ও বৃক্ষপ্রেমীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে।’

তিনি জানান, গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত মেলা থেকে ৬১ হাজার ১০৭টি চারা বিক্রি হয়েছে। এসব চারার বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ১৯০ টাকা।

জেলা প্রশাসন ও পশ্চিম বন বিভাগের উদ্যোগে গত ১১ জুলাই খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শুরু হয়। মাসব্যাপী এ মেলা চলবে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত। শেষ সময়ে মেলায় ভিড় বাড়ায় বিক্রিও আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।#

Advertisement
Advertisement
Advertisement