তিস্তার দুই কূলে জাগছে আশার সূর্য: প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরেই খুলছে মহাপরিকল্পনার জট
নিজস্ব প্রতিবেদক, লালমনিরহাট | ১১ মে, ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দীর্ঘশ্বাস আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। মরুপ্রকৃতি হয়ে ওঠা তিস্তার ধু-ধু বালুচরে আবারও সবুজের সমারোহ আর স্বচ্ছ জলরাশির নাচন দেখার দিন আর খুব বেশি দূরে নেই। ঝুলে থাকা বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের পথে সব বাধা কাটিয়ে এবার চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে, যা উত্তরের জেলাগুলোর মানচিত্র বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সোমবার তপ্ত দুপুরে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় দাঁড়িয়ে সেই প্রত্যাশিত আশার কথা শোনালেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজিত ‘চাকরি মেলা’র শুভ উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ খুব দ্রুতই আলোর মুখ দেখছে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরই হতে যাচ্ছে এই প্রকল্পের তুরুপের তাস। এই সফরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে তিস্তা প্রকল্প, যার অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পরিণতির অপেক্ষায়।
মন্ত্রী যখন কথাগুলো বলছিলেন, তখন তার চোখেমুখে ছিল আগামীর এক সমৃদ্ধ উত্তরাঞ্চলের প্রতিচ্ছবি। তিনি উল্লেখ করেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার স্পন্দন। বছরের পর বছর ধরে বন্যা আর খরায় পিষ্ট হওয়া মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় ভ্রমণ নয়, বরং এটি উত্তরের অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ হয়ে আসবে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীশাসন, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা এবং পর্যটন কেন্দ্রের মাধ্যমে নদীপাড়ের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার এক আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
কেবল অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, কর্মসংস্থানের এক মহোৎসবের আমেজও ছড়িয়ে পড়েছে সীমান্তবর্তী এই জেলায়। নির্বাচনী ইশতেহারের সেই ‘এক কোটি কর্মসংস্থান’ সৃষ্টির অঙ্গীকার যে কেবল কথার কথা ছিল না, লালমনিরহাটের এই চাকরি মেলা তারই এক বলিষ্ঠ প্রমাণ। মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, ধাপে ধাপে প্রতিটি জেলায় এমন কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে আমরা তা পূরণ করব। বেকারত্বের অভিশাপ মুছে তরুণদের হাতে কাজের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
এদিনের এই মেলা প্রাঙ্গণ ছিল তারুণ্যের পদচারণায় মুখরিত। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের এই মহতী উদ্যোগে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে এক হাজার যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মেলা যেন এক খণ্ড কর্মসংস্থানের উৎসবে পরিণত হয়েছিল।
তিস্তার পাড়ে এখন নতুনের গান। একদিকে মহাপরিকল্পনার হাতছানি, অন্যদিকে ঘরে ঘরে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে একসময়ের অবহেলিত উত্তর জনপদ এখন উন্নয়নের মূলস্রোতে মিশে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। আকাশচুম্বী প্রত্যাশা আর সরকারের দৃঢ় সংকল্প মিলেমিশে একাকার হয়ে লালমনিরহাটের আকাশে আজ যেন এক নতুন আশার আবির ছড়িয়ে পড়েছে।