জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততার অভিযোগ __ সুন্দরবনে দস্যুদের ১৩ মৌয়াল মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরে চরম বিপাকে

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন   |   খুলনা

জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততার অভিযোগ  __    সুন্দরবনে দস্যুদের ১৩ মৌয়াল মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরে চরম বিপাকে

মাসুদ আল হাসান, খুলনা ব্যুরো :

সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে পড়ে সব হারিয়ে বাড়ি ফিরেছেন কয়রা উপজেলার ১৩ মৌয়াল। নগদ টাকা, মধু সংগ্রহের সরঞ্জাম লুট এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঋণের বোঝা নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৌয়ালরা।

রোববার ১০ মে বিকেলে কয়রা প্রেসক্লাবে এসে ভুক্তভোগী মৌয়ালরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা রেঞ্জের বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশন থেকে অনুমতি নিয়ে দুটি নৌকায় মধু আহরণের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন তারা। বিকেল ৫টার দিকে শিবসা নদীসংলগ্ন কুমড়াখালী খালে পৌঁছালে ‘দুলাভাই বাহিনী’ নামে একটি বনদস্যু দল তাদের নৌকা ঘিরে ফেলে।

মৌয়ালদের অভিযোগ, পরে তাদের সুন্দরবনের গভীরে নিয়ে দুই দিন আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। দস্যুদের কাছে বন্দুক, পাইপগান ও রাইফেলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল এবং সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় ২৮ থেকে ৩০ জন। এ সময় তাদের কাছে থাকা প্রায় ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মধু সংগ্রহের সরঞ্জাম নষ্ট করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দেনদরবারের একপর্যায়ে বিকাশের মাধ্যমে ৩৬ হাজার টাকা পাঠানোর পর শনিবার বিকেলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ওইদিন রাতেই তারা বাড়ি ফেরেন।

মৌয়াল দলের সর্দার আব্দুল গফুর গাজী বলেন, ঋণ নিয়ে মধু সংগ্রহে গেলেও দস্যুরা সব কেড়ে নিয়েছে। এখন সংসার চালানো ও পাওনাদারের টাকা পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

কয়েকজন মৌয়াল স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হাসানের সঙ্গে দস্যুদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও তিনি তা অস্বীকার করে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন।

দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহ করা মৌয়ালরা জানান, বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও হামলার ভয়ে এখন বনে যাওয়া অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement