সুন্দরবনে শামুক-ঝিনুক নিধন, সক্রিয় পাচার চক্র
খুলনা ব্যুরো :
সুন্দরবন ও উপকূলীয় নদ-নদী থেকে অবাধে শামুক-ঝিনুক আহরণ ও পাচার কার্যক্রম উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সংঘবদ্ধ চক্র বঙ্গোপসাগর ও নৌরুট ব্যবহার করে এসব জলজ সম্পদ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনসংলগ্ন খাল ও নদী থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। ট্রলারভর্তি এসব পণ্য প্রথমে বিভিন্ন স্থানে মজুদ করে পরে সড়ক ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হয়ে সীমান্তে পৌঁছানো হয়। এ কাজে প্রান্তিক জেলেদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বনবিভাগের পৃথক অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কেজি শামুক-ঝিনুক উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একটি ট্রলার থেকে বস্তাভর্তি শামুক জব্দ এবং এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত শামুক-ঝিনুক পুনরায় নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পাচারে দুটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়—একটি সুন্দরবনের নৌরুট নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যটি সড়কপথে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ দিচ্ছে। স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি হলেও বিদেশে চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় এ অবৈধ বাণিজ্য থামছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শামুক-ঝিনুক নদীর পানিকে প্রাকৃতিকভাবে পরিশোধন করে এবং জলজ খাদ্যচক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব নির্বিচারে আহরণ অব্যাহত থাকলে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এ কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয়দের বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরির দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা।