চুরির আতঙ্কে খুলনা: প্রেসক্লাব, মিডিয়া অফিস ও বাসাবাড়ি টার্গেটে দুর্বৃত্তচক্র
খুলনা ব্যুরো :
খুলনা নগরীতে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্প্রতি দৌলতপুরের দক্ষিণ পাবলা এলাকায় অন্তত তিনজন সাংবাদিকের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এতে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
সর্বশেষ সোমবার তারের পুকুর এলাকায় একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার অফিসে চুরির চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। বৈদ্যুতিক মিটারের তার চুরি করতে গিয়ে তারা ভবনের মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, ফলে অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং আর্থিক ক্ষতি হয়। এর আগে একই স্থানে পানির মিটার ও পাম্পের তার চুরির ঘটনাও ঘটে।
এছাড়া ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এক সাবেক কাউন্সিলরের বাসা থেকে সিসিটিভি থাকা সত্ত্বেও তালাবদ্ধ সাইকেল চুরি হয়। স্থানীয়রা জানান, একই এলাকায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। দোলখোলা এলাকাতেও একটি বাসার গ্রিল কেটে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে।
খুলনা প্রেসক্লাবও চুরির হাত থেকে রক্ষা পায়নি। গত ২৮ ডিসেম্বর প্রেসক্লাবের বৈদ্যুতিক মিটারের তার চুরি হয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং সংগঠিত চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকারি হাসপাতালের পরিচালকের বাসাতেও চুরির চেষ্টা বা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর পুলিশ কমিশনার চুরি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় নগরবাসী টহল জোরদার, রাতের চেকপোস্ট বৃদ্ধি এবং সংঘবদ্ধ চোরচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
ক্রমবর্ধমান চুরির ঘটনায় নগরজীবনে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।