সংবাদ শিরোনাম

সাবেক দুই আওয়ামী লীগ নেতার বিএনপিতে যোগদান, এলাকাজুড়ে সমালোচনা

 প্রকাশ: ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন   |   খুলনা

সাবেক দুই আওয়ামী লীগ নেতার বিএনপিতে যোগদান, এলাকাজুড়ে সমালোচনা

খুলনা ব্যুরো :

দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দুই সাবেক প্রভাবশালী নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন। তাদের এই দলবদলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মো. অহিদুল ইসলাম এবং দরগাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম জমির উদ্দিন গাজী শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।

রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের তালতলা এলাকায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমাতউল্লাহ পলাশের বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমাতউল্লাহ পলাশ ও সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা বিএনপিতে যোগ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আহ্বায়ক আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস, সাবেক সদস্য সচিব মশিউর হুদা তুহিন, আনুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত হোসেনসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী মো. অহিদুল ইসলাম এর আগে খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি সম্প্রতি এসব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

অন্যদিকে, দরগাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম জমির উদ্দিন গাজীও দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

তবে তাদের বিএনপিতে যোগদানকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ক্ষমতার বলয়ে থেকে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নানা অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত ছিলেন এই দুই নেতা। দল পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা নিজেদের অতীত ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করলেই অতীত দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ডের হিসাব শেষ হয়ে যায় না। স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন জনগণের প্রধান দাবি।