জাতীয় প্রেস ক্লাবে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

 প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   ঢাকা

জাতীয় প্রেস ক্লাবে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

স্টাফ রিপোর্টার:

সাংবাদিক সমাজের অকৃত্রিম বন্ধু ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, অবিসংবাদিত রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অসীম ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সংকট মোকাবিলা করে বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পাশে ছিলেন। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করলেই দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, সংবাদপত্রের জগৎ একটি বিশাল জগৎ। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে এ জগতের সঙ্গে যাঁর সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর, আদর্শিক ও ব্যক্তিগত তিনি হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ভিত্তি দৃঢ় হয়।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণ করে বলেন, ‘আমরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছি। তাঁর ব্যক্তিত্বের ব্যাপ্তি ছিল বিশাল। তাঁর ইন্তেকালের পর মানুষের যে আবেগ, শোক ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে সমাজের গভীরে তিনি কীভাবে নিজের অবদান রেখে গেছেন।

রিজভী আরো বলেন, ‘তাঁর জানাজার দিন মানুষের যে ঢল নেমেছিল, তা কোনোভাবেই সংগঠিত ছিল না। কেউ কাউকে ডাকেনি। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষ নিজ নিজ তাগিদে রাস্তায় নেমে এসেছিল। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কেরানি, পানের দোকানদার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তরের টানেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেছেন ইমাম খোমেনির জানাজার পর এত বড় জানাজা আর দেখা যায়নি। আমার মনে হয়েছে, পুরো ঢাকা শহর যেন মানুষের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল। এটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, ছিল মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।

রিজভী বলেন, ‘তিনি ছিলেন এক মহীরুহ। মহীরুহের ছায়ায় আশ্রয় পাওয়া বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা এমন এক মহীরুহের ছায়াতলে বসবাস করতাম। আজ সেই ছায়া যেন সরে গেছে। একটি পরিবারে বাবা-মা বৃদ্ধ হলেও তাঁদের অস্তিত্বই এক ধরনের সাহস দেয়। সেই অভিভাবকত্বের অনুভূতিটাই আজ আমরা হারিয়েছি।

এ শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় আরো বক্তৃতা রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাংবাদিক নেতা একেএম মহসিন, রাশেদুল হক, বাছির জামাল, এরফানুল হক নাহিদ, জাহিদুল ইসলাম রনি, দিদারুল আলম দিদার, সাঈদ খান, নুর উদ্দিন বহমেদ নুরুসহ বিএফইউজে ও ডিইউজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement