কক্সবাজারে টেকনিক্যাল সেন্টারের জমি বুঝে পেল বাফুফে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মানের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। কিছুটা বিলম্ব হলেও কক্সবাজারে সেন্টারের জন্য জমি বুঝে পেল বাফুফে। ফুটবলের জন্য, ফুটবলারের জন্য বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘ফিফা সার্টিফাইড টেকনিক্যাল সেন্টার’ নির্মিত হতে যাচ্ছে। কক্সবাজারের রামু উপজেলায় আন্ত—র্জাতিকমানের এই ফুটবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ দশমিক ২০ একর জমি হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জমি হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বাফুফের পক্ষে জমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। পরে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র বাফুফে সভাপতির হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক।
অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রামু উপজেলায় বাফুফে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য ১৫ দশমিক ২০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি বাফুফের কাছে হস্তান্তর করেছে। তিনি বলেন, রামুতে আন্তর্জাতিকমানের ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ফুটবলাররা এখানে আধুনিক ও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। তাবিথ আউয়াল আরও বলেন, এই টেকনিক্যাল সেন্টার ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একই সঙ্গে দেশের তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরিতেও কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ বাফুফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তার আগে কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে বাফুফের টেকনিক্যাল সেন্টার নিয়ে অনেক দিন থেকেই আলোচনা ছিল। তবে ফিফার কোটি টাকার অনুদান হাতছাড়ার উপক্রম হয়েছিল বাফুফের নামে জায়গা বরাদ্দ না থাকায়। অবশেষে বাফুফে কক্সবাজারে রামু উপজেলার রশিদনগরের ধলিরছড়া মৌজায় ১৫.২০ একর জমি সরকার থেকে পাচ্ছে। কক্সবাজারে সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও বাফুফের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়েছে। বাফুফের গভর্মেন্ট রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ফেডারেশনের কাছে চিঠিতে জায়গার মূল্য বাবদ কয়েক কোটি টাকা চেয়েছিল। ফেডারেশনের সেটি প্রদানের সামর্থ্য নেই। ফুটবল ফেডারেশন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হলে প্রধানমন্ত্রী ১ লাখ ১ টাকার নামমূল্যে এটি ফুটবল ফেডারেশনের অনুকূলে লিজ প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই মোতাবেক কক্সবাজারে চুক্তি সম্পাদন হবে।’
বাফুফের সাবেক সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সময় কক্সবাজারের রামুতেই ফিফা টেকনিক্যাল সেন্টারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। অধিকাংশ জায়গা বনের মধ্যে পড়ায় পরিবেশবাদী সংগঠন আপত্তি তোলে। বাফুফের সেই চুক্তি বাতিল করে অন্তবর্তীকালীন সরকার। পরবর্তীতে কক্সবাজারেরই অন্যত্র জায়গা খুঁজে পায় ফেডারেশন। জায়গা খুঁজে পাওয়া ও আর্থিক সংকট মিলিয়ে অনেক বিলম্ব হওয়ায় ফিফার প্রজেক্ট হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল। বাফুফের নামে অন্তত ২০ বছরের কম সময় জমির মালিকানা বা দখল না থাকলে ফিফা অনুদান দেয় না। কক্সবাজারের টেকনিক্যাল সেন্টার নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন বলেন, ‘ফুটবলের জন্য সুখবর, অবশেষে আমরা টেকনিক্যাল সেন্টারের জায়গার সমস্যা সমাধান করতে পেরেছি। সোমবার চুক্তি হওয়ার পর সেটা ফিফায় পাঠানো হবে। এরপর দ্রুতই কাজ শেষ করা যাবে, কারণ অনুদান আমাদের জন্য বরাদ্দই রয়েছে। এখানে আমরা তিনটি মাঠ, জিম, সুইমিংপুল ও দু’টি ডরমেটরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।’ এদিন কক্সবাজারে বাফুফে নির্বাহী কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সভায় মূলত টেকনিক্যাল সেন্টার নিয়েই আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ফুটবলের সমসাময়িক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা সোমবার সকালে কক্সবাজার গিয়ে দুপুরে সভা ও চুক্তি করে আবার বিকেলে ঢাকায় ফিরে আসেন।