বেসরকারি কর্মীদের সংগঠিত করতে নতুন দপ্তর মামদানির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বেসরকারি খাতের কর্মীদের সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে নতুন একটি দপ্তর গঠন করেছেন নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি। ‘মেয়র’স অফিস অব ওয়ার্কার পাওয়ার’ নামের দপ্তরটি কর্মীদের ইউনিয়ন গঠন, অধিকার সম্পর্কে তথ্য পাওয়া এবং কর্মক্ষেত্রের সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
শ্রমিক দিবসের প্রতি ইঙ্গিত রেখে সোমবার নির্বাহী আদেশে নতুন দপ্তরটি গঠনের ঘোষণা দেন মামদানি। তাঁর ভাষ্য, এর মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জন্য আরও বেশি সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম ও শোষণ কমানো সম্ভব হবে।
এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, শোষণ সংকটে রূপ নেওয়া কিংবা নিয়মিত অধিকার লঙ্ঘনে পরিণত হওয়ার আগেই কর্মীদের যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে জায়গা থাকে, নতুন দপ্তর তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে কর্মীদের তাঁদের অধিকার, পরস্পর এবং তাঁদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
নতুন দপ্তরের নেতৃত্ব দেবেন টনি পার্লস্টেইন। তিনি সাবেক লংগশোরম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সের (ইউএডব্লিউ) সংগঠনবিষয়ক পরিচালক ছিলেন।
নতুন দপ্তর নিয়ে এক ভার্চ্যুয়াল ব্রিফিংয়ে পার্লস্টেইন বলেন, সিটি হলের ব্যাপক পরিসর ও যোগাযোগব্যবস্থাকে শ্রমিকদের কাজে লাগানো গেলে তা তাঁদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। তাঁর মতে, নিউইয়র্কে এমন অনেক ধনী নিয়োগকর্তা ও করপোরেশন রয়েছে, যারা কর্মীদের আরও বেশি মজুরি দিতে পারে। তাঁদের কর্মীদের নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলা ও সংগঠিত হতে সহায়তা করাই নতুন দপ্তরের লক্ষ্য।
কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতি জানতে বিভিন্ন শিল্প খাতের কর্মীদের নিয়ে শুনানি আয়োজন করবে দপ্তরটি। বিভিন্ন খাতের কর্মীদের মধ্যেও যোগাযোগ তৈরি করা হবে। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি যারা কর্মীদের সংগঠিত হতে সহায়তা করে, এমন সংগঠনগুলোর কাছেও তাঁদের পাঠানো হবে।
এ ছাড়া নগর প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করে কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গবেষণা ও প্রতিবেদন তৈরি করবে দপ্তরটি।
পার্লস্টেইন অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারবিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি সু-এর কাছে জবাবদিহি করবেন। সিটি হলের ব্রিফিংয়ে সু স্পষ্ট করে বলেন, নতুন দপ্তর সরাসরি কর্মস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সংগঠিত করবে না।
তিনি বলেন, এই দপ্তর ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন বা এ ধরনের কাজ করা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকল্প নয়। বরং তাদের কাজকে সহায়তা করাই এর উদ্দেশ্য।
সু ও পার্লস্টেইন কর্মীদের আয় এবং কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের আয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধানের কথা তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, শ্রমজীবী মানুষের আয় বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হতে পারে।
মামদানি প্রশাসনের সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি খাতে পরিবর্তন আনার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন দপ্তরটি গঠন করা হয়েছে। নগর সরকারের ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগও কর্মক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও সমঝোতার বিষয় সামনে এনে ইতিমধ্যে প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
তবে নতুন দপ্তরের উদ্যোগ সফল হলে নিউইয়র্কের বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যসংখ্যা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক আরও চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। শহরের বড় নিয়োগকর্তারা বেসরকারি খাত নিয়ে মামদানির বিভিন্ন সমালোচনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে করপোরেট কর বাড়ানোর তাঁর পরিকল্পনাও রয়েছে।