সংবাদ শিরোনাম

আগ্নেয়গিরি ছাইয়ে, জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ

 প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

আগ্নেয়গিরি ছাইয়ে, জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ ছবি-সংগৃহীত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দর সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয় ছাই রাজধানীর আকাশে শনাক্ত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রোববার সকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগ্নেয়গিরিটির অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সময় বেলা দেড়টা পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে। জাকার্তা থেকে ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ শুক্রবার রাত থেকে অগ্ন্যুৎপাত করছে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভার ফোয়ারা দেখা গেছে। বিস্ফোরণের শব্দ আগ্নেয়গিরিটি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গেছে। রোববারও দুটি নতুন অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আগ্নেয়গিরিবিষয়ক সংস্থা।

জাভার দিকের আকাশে প্রায় ৬ হাজার মিটার উচ্চতায় ছাই শনাক্ত হয়েছে। সুমাত্রার দিক এবং জাভার বানতেন প্রদেশের কিছু এলাকায় ছাইয়ের মেঘ ১৫ হাজার মিটার বা প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উঠেছে বলে বিএমকেজি জানিয়েছে।

এর আগে বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখার সময় ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। ওই সিদ্ধান্তে ৩৩টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়-এর মধ্যে ১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল এবং সাতটি ফ্লাইট বিলম্বিত হয় বলে ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লুকমান এফ লায়সা জানান, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৩৫ মিনিট থেকে ১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত চালানো পরীক্ষায় বিমানবন্দরে আগ্নেয় ছাইয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ফ্লাইট বন্ধ রাখার সময় বাড়ানো হয়।

তিনি বলেন, প্রতিটি পরিচালনাগত সিদ্ধান্তে যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমান সংস্থা, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং আবহাওয়া সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।

আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার জাকার্তাগামী ও জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি ফ্লাইট বাতিল করে সংস্থাটি। আরও দুটি ফ্লাইট রোববার পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা শনিবার জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিক সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।

আনাক ক্রাকাতাউ ১৯২০-এর দশকে সমুদ্রের বুক থেকে জেগে ওঠে। এটি ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া আগ্নেয়গিরির গহ্বরের মধ্যে গড়ে ওঠে। ওই অগ্ন্যুৎপাতকে নথিভুক্ত ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী আগ্নেয়গিরির ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পরবর্তী কয়েক দশকে আনাক ক্রাকাতাউয়ে মাঝেমধ্যে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। ২০১৮ সালের এক অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরিটির একটি অংশ ধসে পড়ে এবং সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রার উপকূলে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

আগ্নেয় ছাই উড়োজাহাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। এটি বিমানের জেট ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা