সংবাদ শিরোনাম

যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া-ইউক্রেন সফরে মার্কিন দূতরা

 প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া-ইউক্রেন সফরে মার্কিন দূতরা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা আবারও শুরু করতে রাশিয়া ও ইউক্রেন সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। রুশ ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম শুক্রবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহান্তেই তাঁদের এ সফর হওয়ার কথা।

পরে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, দুই দূত যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সফরের খবর নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাবেন।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। এর কিছুদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে সেই উদ্যোগ থেমে যায়।

এরপর থেকেই উইটকফ ও কুশনারের সম্ভাব্য মস্কো সফর নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। জুনে পেসকভ বলেছিলেন, তাঁরা তখন ‘অন্য বিষয় নিয়ে ব্যস্ত’ এবং তাঁদের সময় হলে আবার আলোচনা শুরু হবে।

দুই মার্কিন দূত সর্বশেষ জানুয়ারিতে রাশিয়া সফর করেছিলেন। সে সময় ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁদের প্রায় চার ঘণ্টা ধরে রাতভর বৈঠক হয়। চলতি সপ্তাহে পুতিন বলেন, উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তাঁদের ভালো লাগে এবং তাঁরা মস্কোয় সব সময় স্বাগত।

এদিকে রয়টার্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইউক্রেন সফরের বিষয়টি এখনো আলোচনার মধ্যে রয়েছে এবং রোববার সফরের সম্ভাব্য দিন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর এটাই উইটকফ ও কুশনারের প্রথম কিয়েভ সফর হতে পারে।

তবে সফর নিয়ে অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট নিজস্ব সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, উইটকফের উদ্বেগের কারণে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া ও ইউক্রেন সফর বাতিলও হতে পারে।

সূত্রগুলোর দাবি, দুই দূত বিমানযোগে কিয়েভে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু রাজধানীর আকাশসীমা এখনো বন্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর সঙ্গে রাশিয়া তাঁদের সফরের সময় ইউক্রেনে হামলা বন্ধ রাখার কোনো নিশ্চয়তা না দেওয়ায় পরিকল্পনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উইটকফ ও কুশনার মস্কো ও কিয়েভে বৈঠক করবেন বলে তিনি আশা করছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে আলোচনায় যুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

শান্তি আলোচনা আবার চালুর সর্বশেষ এই উদ্যোগের মধ্যেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। ক্রেমলিন সম্প্রতি আলোচনা ‘গভীর স্থবিরতায়’ রয়েছে বলে জানিয়েছিল। এর মধ্যেই গত কয়েক সপ্তাহে দুই পক্ষ হামলা আরও জোরদার করেছে, যাতে বাণিজ্যিক ও শিল্প অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইউক্রেনকে আরও ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবি করে আসছেন পুতিন। কিয়েভ এমন শর্ত প্রত্যাখ্যান করে বলছে, তা কার্যত আত্মসমর্পণের শামিল।

তবে বৃহস্পতিবার পুতিন বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ‘সুযোগ’ রয়েছে।