সংবাদ শিরোনাম

কুসরায় বসতিতে হামলা, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গ্রেপ্তার

 প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কুসরায় বসতিতে হামলা, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিম তীরের আলোচিত কুসরা গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। গত শনিবারের ওই হামলায় বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে এবং একটি বাড়িতে ফিলিস্তিনিরা থাকা অবস্থায় নিজেদের ভেতরে অবস্থান নিয়ে বাড়িটি ঘিরে রাখে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ১৯ বছর বয়সী এবং উত্তর পশ্চিম তীরের সামারিয়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। পরে আদালতে হাজির করে তাঁর হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করবে পুলিশ।

নাবলুসের কাছে অবস্থিত কুসরায় গত শনিবার কয়েক ডজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

এর আগে গত মাসেও কুসরার উপকণ্ঠে বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল ফিলিস্তিনি বাড়িগুলোতে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ঢুকতে বাধা দেয়। এতে কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অস্বাভাবিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এ হামলার কঠোর সমালোচনা করেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ‘ভয়াবহ’ সহিংসতার জবাব দেওয়ার কথা জানান।

ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনায় সহিংস ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের গ্রেপ্তার করা খুবই বিরল। তবে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের সবাইকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের যৌথ তদন্ত দল প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করাই তাদের লক্ষ্য।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও শনিবারের হামলার নিন্দা করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘অপরাধমূলক সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কুসরা অবরোধ করে রাখা বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে গত মাসে সেনাদের নিয়ে প্রার্থনা করার দৃশ্য ধারণ করা এক রিজার্ভ সেনাকে মঙ্গলবার বরখাস্ত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই সময় বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের সঙ্গে অবস্থান করেছিলেন।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বহু বছর ধরে চলছে। এসব ঘটনায় প্রায়ই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বা দায়ীরা সামান্য শাস্তি পান। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামলার সংখ্যা বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েলি বসতিগুলোতে বর্তমানে ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করেন। তাঁদের সঙ্গে একই ভূখণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে।

এএফপির হিসাব অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ১০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক-দুই পক্ষই রয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা বা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৮ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মী উভয়েই রয়েছেন।
সূত্র: আরব নিউজ