সংবাদ শিরোনাম

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত তিন, ফিলিস্তিনি সরানোর পরিকল্পনা

 প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত তিন, ফিলিস্তিনি সরানোর পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজা উপত্যকায় ‘যুদ্ধবিরতি’ চললেও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা থেকে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়ার সাত বছরের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পশ্চিম গাজা সিটির রিমাল এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলের চিকিৎসা সূত্র আল-জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, একটি বেসামরিক দলের ওপর ড্রোন থেকে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

অন্যদিকে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা একদল ফিলিস্তিনির ওপর গুলি চালালে দুজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। আল-জাজিরার গাজার প্রতিবেদক নূর খালেদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজনের একজন ১৩ বছরের শিশু। অন্যজন হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার পর মারা যান।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজায় তাদের সেনারা ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করা দুই ‘সন্ত্রাসীকে’ শনাক্ত করে। তাদের ভাষ্য, হুমকি দূর করতে দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গাজায় যে বাফার জোন তৈরি করা হয়েছে, সেটিই ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গাজায় বড় ধরনের লড়াই থেমে গেলেও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও উপত্যকাজুড়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটছে।

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরানোর পরিকল্পনা
ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার গাজা থেকে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে সাত বছরের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

মন্ত্রীটির দপ্তর জানিয়েছে, পরিকল্পনার আওতায় এ উদ্দেশ্যে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং গাজা থেকে যাওয়া মানুষদের গ্রহণে আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বেন-গভিরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার, তিন বছরের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ এবং সাত বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ লাখ ফিলিস্তিনিকে গাজা ছাড়ার ব্যবস্থা করা হবে।

কট্টর ডানপন্থী এই মন্ত্রী পরিকল্পনাটিকে ‘বাস্তবসম্মত’ বলে দাবি করেছেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধান হিসেবে গাজার বাসিন্দাদের ‘অভিবাসনে উৎসাহিত’ করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর এক দিন আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও স্বীকার করেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েল এখনো কাজ করছে।

অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে বেসামরিক জনগণকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া জেনেভা কনভেনশনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপত্যকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওই সময় থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৩ হাজার ৪৭০ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩০ জনের বেশি।
সূত্র: আলজাজিরা