সংবাদ শিরোনাম

তিউনিসিয়ায় বিরোধীদের সাজা বহাল, আদালতের স্বাধীনতা প্রশ্নে

 প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

তিউনিসিয়ায় বিরোধীদের সাজা বহাল, আদালতের স্বাধীনতা প্রশ্নে

তিউনিসিয়ায় বিরোধীদের সাজা বহাল, আদালতের স্বাধীনতা প্রশ্নেআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তিউনিসিয়ার সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দণ্ডিত বিরোধী নেতা, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও মানবাধিকারকর্মীদের সাজা বহাল রেখেছেন। বৃহস্পতিবার ক্যাসেশন কোর্টের এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে চলা বহুল আলোচিত মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলো।

মামলায় ৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও মানবাধিকারকর্মীরা রয়েছেন। অভিযুক্তদের অর্ধেক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এবং তাঁদের অনুপস্থিতিতেই সাজা দেওয়া হয়েছে। কারও কারও সর্বোচ্চ ৪৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হয়েছে।

ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্টের নেতা নাজিব চেব্বিকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিরোধী নেতা গাজি চাওয়াচি, ইসাম চেব্বি, জাওহার বেন মারেক ও রিদা বেলহাজকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজনীতিক নুরেদ্দিন ভিরিকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের সাজা।

নাজিব চেব্বির মেয়ে ও আইনজীবী হাইফা চেব্বি অভিযোগ করেছেন, এই রায় প্রমাণ করে তিউনিসিয়ার বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। তাঁর দাবি, বিরোধীদের নীরব করতে পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, বৃহস্পতিবারের শুনানির বিষয়ে তাঁদের সোমবার জানানো হয়। ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য তাঁরা পর্যাপ্ত সময় পাননি।

জাওহার বেন মারেকের বোন দালিলা মসাদ্দেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আইনি লড়াই এখন শেষ হয়েছে; এবার শুরু হচ্ছে ‘পুরোপুরি রাজনৈতিক লড়াই’।

২০১৯ সালে কাইস সাইয়েদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিউনিসিয়ার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পশ্চাদপসরণের প্রতীক হিসেবে এই মামলাটিকে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছে। সাইয়েদ পরে মূলত ডিক্রি জারি করে দেশ শাসন করেছেন, স্বাধীন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিলুপ্ত করেছেন এবং বহু বিচারককে বরখাস্ত করেছেন।

তবে সাইয়েদের সরকার রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তিউনিসিয়ার বিচারমন্ত্রী দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিলেন।

২০২৩ সালে গ্রেপ্তারের পর সাইয়েদ নিজেও অভিযুক্তদের ‘বিশ্বাসঘাতক ও সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তাঁদের খালাস দেওয়া বিচারকদেরও সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছিলেন তিনি।
সূত্র: আলজাজিরা