মেল গিবসনের সুপারিশ না করায়, বরখাস্ত অ্যাটর্নির মামলা

অনলাইন ডেস্ক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক

মেল গিবসনের সুপারিশ না করায়, বরখাস্ত অ্যাটর্নির মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পারডন অ্যাটর্নি লিজ ওয়ার চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ঘটনায় দেশটির বিচার বিভাগের (ডিওজে) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিনেতা মেল গিবসনের বন্দুক রাখার অধিকার পুনর্বহালের সুপারিশ করতে অস্বীকার করার পর গত বছর তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ওয়ারকে ২০২৫ সালের মার্চে বরখাস্ত করা হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিচার বিভাগে প্রথম কয়েক মাসে বরখাস্ত ও পদ পুনর্বিন্যাসের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তিনি ছিলেন তার অন্যতম শিকার।

অলাভজনক সংস্থা ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ডের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার আদালতে দাখিল করা মামলায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ওয়ারকে তাঁর দায়িত্ব উপেক্ষা করে মেল গিবসনের জন্য ‘রাজনৈতিক সুবিধা’ করে দিতে বলা হয়েছিল। ট্রাম্পের সঙ্গে গিবসনের সম্পর্কের কারণে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, গিবসন পারিবারিক সহিংসতার একটি ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁর হাতে আবার আগ্নেয়াস্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য জননিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে ওয়ারের গুরুতর উদ্বেগ ছিল। তাঁর দাবি, গিবসনের অনুরোধের বিষয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা হয়েছে এবং সেই পর্যালোচনায় তাঁর বন্দুক রাখার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, এমন একটি ধারণা তৈরি করতে তাঁকে বলা হয়েছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তাদের মতো ওয়ারও অল্প কয়েক লাইনের একটি বরখাস্তের নোটিশ পেয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে প্রেসিডেন্টকে দেওয়া ক্ষমতাবলে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

তবে ওয়ারের মামলায় দাবি করা হয়েছে, তাঁকে বরখাস্তের প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সুরক্ষা মানা হয়নি। এর মধ্যে ছিল ৩০ দিনের নোটিশ, লিখিতভাবে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ এবং বরখাস্তের কারণ উল্লেখ করে লিখিত সিদ্ধান্ত পাওয়ার অধিকার।

ওয়ার বলেন, বিষয়টি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত চাকরি হারানোর ঘটনা নয়। তাঁর ভাষ্য, সব মার্কিন নাগরিকই নিরপেক্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করেন, যারা কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই জনগণকে নিরাপদ রাখা এবং আইন কার্যকর করার দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রতি নিজের দায়িত্বের চেয়ে রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি এই বরখাস্ত জননিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে নিয়োগ পাওয়ার কারণে ওয়ারের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে প্রশাসনের ধারণার ভিত্তিতে তাঁকে সরানো হয়েছিল। এ কারণে তাঁর বরখাস্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত অধিকারও লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ওয়ারকে বরখাস্তের পর ট্রাম্প পারডন অ্যাটর্নি হিসেবে এড মার্টিনকে নিয়োগ দেন। রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী মার্টিন ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িত কয়েকজনের পক্ষে আইনি সহায়তা করেছিলেন। এর আগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি পদে মনোনয়ন দেওয়া হলেও ওই ব্যক্তিদের হয়ে তাঁর কাজ নিয়ে উদ্বেগের কারণে সিনেটে সেই মনোনয়ন এগোয়নি।

ওয়ার এর আগে সরকারি কর্মীদের মামলা দেখভালের প্রতিষ্ঠান মেরিট সিস্টেমস প্রোটেকশন বোর্ডে (এমএসপিবি) তাঁর বরখাস্তের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া কার্যত থেমে যাওয়ার পরই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবারের আদালত নথিতে বলা হয়েছে, এমএসপিবিতে আবেদন করার ১৬ মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ওয়ার তাঁর বরখাস্তের বিষয়ে কোনো কার্যকর পর্যালোচনা পাননি। সম্প্রতি তাঁর মামলাটি আবারও অন্যত্র পাঠানো হয়েছে, ফলে বিষয়টি আরও দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

২০২৬ সালের মার্চে এমএসপিবি একটি সিদ্ধান্তে ব্যাপকভাবে জানায়, সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগের দাবি করে কোনো কর্মীকে বরখাস্ত করা হলে অনেক ক্ষেত্রে সেই বরখাস্তের বিষয়ে তাদের এখতিয়ার নেই। সাধারণত সিভিল সার্ভিস রিফর্ম অ্যাক্টের আওতায় যেসব মামলা আসে, এসব ক্ষেত্রে তার বাইরের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের দাবি থাকায় এখতিয়ার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: দ্য হিল