সংবাদ শিরোনাম

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, নিহত পাঁচ

 প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, নিহত পাঁচ ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ইরান। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬৩ জন। আহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার বলেন, কুহেস্তাকে বিয়ের অনুষ্ঠান চলার সময় একটি বাড়িতে ‘বর্বর’ হামলা চালানো হয়েছে। এতে অর্ধশতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

ইরানের প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোসেইন কারমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলার পর এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশ করা ভিডিওতে হামলার পর একটি ভবনের দেয়াল ও জানালা উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। চারপাশে ছড়িয়ে ছিল ধ্বংসাবশেষ। সংস্থাটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন শিশুর ছবিও প্রকাশ করেছে।

সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শাহিদিয়ান পরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে বলেন, হামলায় ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহত ও নিহতদের মধ্যে ৫০ জন নারী ও শিশু। আহত সবাইকে কাছের মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানান তিনি।

আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর বক্তব্যও প্রকাশ করেছে। শিশুটি জানায়, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগে সে যুদ্ধবিমান উড়তে শুনেছিল।

শিশুটির ভাষ্য, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরা তার মুখ ও মাথায় আঘাত করে। সে আরও জানায়, সেখানে আহত হওয়া সবাই সাধারণ বেসামরিক মানুষ ছিল।

নতুন করে হামলা চালানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের এই অভিযোগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হামলার চেষ্টার পর এই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক স্থাপনা, মাইন পাতা ও যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

সপ্তাহান্তে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে ইরান।

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়ে জবাব দিয়েছে। কুয়েতও জানিয়েছে, তারা কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।

‘নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়’

কুহেস্তাকে হামলার অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই।

তিনি বলেন, এই হামলাকে এর আগে ঘটে যাওয়া হামলাগুলো থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন মিনাব ও লামের্দ শহরে হামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বাঘাইয়ের দাবি, মিনাবে মার্কিন বাহিনীর হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। লামের্দে একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, এসব ‘বর্বর অপরাধের’ জবাব ইরান কঠোরভাবে দেবে। একই সঙ্গে যেসব সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এসব ঘটনার সামনে নীরব রয়েছে বা হামলাকে সমর্থনের চেষ্টা করছে, তাদেরও সতর্ক করেন তিনি।

বাঘাই বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকাকে নিরপেক্ষতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।এদিকে কুহেস্তাক ছাড়াও ইরানের আরও কয়েকটি উপকূলীয় শহরে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে কোনারাক, বান্দার আব্বাস, জাস্ক, আসালুয়েহ ও আহভাজ। কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

সূত্র: আলজাজিরা