সংবাদ শিরোনাম

সিন্ধুতে পিটিআইয়ের বহরে ব্যাপক জনসমাগম

 প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

সিন্ধুতে পিটিআইয়ের বহরে ব্যাপক জনসমাগম ছবি-সংগৃহীত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতাদের বহর সিন্ধুর শাহদাদকোটে পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের স্বাগত জানিয়েছে। শুক্রবার ঘোটকি জেলা থেকে শাহদাদকোটে পৌঁছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি এ সমাবেশে বক্তব্য দেন।

ইমরান খানের চিকিৎসার জন্য তাঁকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে আদালতের নির্দেশ বারবার অমান্য করার অভিযোগে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টের কঠোর সমালোচনা করেন পিটিআই নেতারা।

সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখের বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি হিসেবে সিন্ধুতে পিটিআইয়ের পাঁচ দিনের জনসংযোগ ও গণসংগঠনের দ্বিতীয় দিনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার সালমান আক্রম রাজা, কেপি শাখার সভাপতি জুনায়েদ আকবর এবং সিন্ধু শাখার সভাপতি হালিম আদিল শেখও সমাবেশে বক্তব্য দেন।

শিকারপুর, শাহদাদকোট, লারকানা ও নওশেরো ফেরোজে ধারাবাহিক সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়ে সোহাইল আফ্রিদি বলেন, এসব কর্মসূচিতে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে সিন্ধুর অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের মানুষ ইমরান খানের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে।

তাঁর দাবি, কয়েক দশক ধরে একটি রাজনৈতিক দলই সিন্ধুর অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের মানুষের সমর্থন ধরে রেখেছে-এমন একটি বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক ধারণা তৈরি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক জনসমাগম সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং সিন্ধুর মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার দাবিতে সারা দেশের মানুষ রাজপথে নামবে বলে আশা প্রকাশ করেন আফ্রিদি। তিনি বলেন, ইমরান খান এখন জাতির দিকে তাকিয়ে আছেন।

আদিয়ালা কারাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে আচরণেরও সমালোচনা করেন কেপি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির সাম্প্রতিক নির্দেশও কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট উপেক্ষা করেছেন। এর আগেও আদালত ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করেনি বলে দাবি করেন তিনি।

আফ্রিদি বলেন, দেশের জন্য ইমরান খান নিপীড়নমূলক শক্তির সঙ্গে আপস করার বদলে কারাবাস বেছে নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দাবিতে মানুষ পিটিআইয়ের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে।

দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কয়েকটি ‘প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারের’ দীর্ঘদিনের আধিপত্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এসব পরিবারের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রয়েছে এবং জনগণের সম্পদ ব্যবহার করে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।

সমাবেশে সালমান আক্রম রাজা বলেন, সিন্ধুর মানুষ ‘নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে’। কৃষিনির্ভর সম্ভাবনাময় এই প্রদেশে মানুষ কেন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত-সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, সিন্ধুর মানুষ যথাযথ শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না। কৃষকেরাও তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাজা বলেন, ইমরান খানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের শাসন এবং সংবিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই পিটিআইয়ের লক্ষ্য।

ইমরান খান সাধারণ মানুষের অধিকার ও দরিদ্র মানুষের মর্যাদার জন্য লড়াই করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। রাজা বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে আন্দোলন বন্ধ করলে মুক্তি দেওয়া হবে-এমন প্রস্তাব ইমরান খান পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতেই থাকা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাঁরা নিজেদের ভোট রক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাবেন। সিন্ধুতেও শেষ পর্যন্ত জনগণের সরকার ও পিটিআই সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পিটিআইয়ের কেপি সভাপতি জুনায়েদ আকবরও সিন্ধুর মানুষকে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। শাহদাদকোটে যেভাবে মানুষ পিটিআইয়ের বহরকে স্বাগত জানিয়েছে, একইভাবে সেদিন রাজপথে নামার আহ্বান জানান তিনি।

পিটিআই আগামী দিনে কেন্দ্র ও প্রদেশগুলোতে সরকার গঠন করবে এবং সিন্ধুতেও দলটির মুখ্যমন্ত্রী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আকবর।

সিন্ধু পিপিপির দীর্ঘদিনের শাসনেরও সমালোচনা করেন হালিম আদিল শেখ। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি ও দুর্বল শাসনের কারণে সিন্ধুর প্রতিটি শহর নতুন করে দুর্ভোগের গল্প বলছে। লারকানা থেকে করাচি পর্যন্ত ১৮ বছরের পিপিপি শাসনে শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পানির সংকট ও বন্যার ক্ষতির কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন শেখ।

তাঁর দাবি, সিন্ধুর মানুষ এখন পিটিআইয়ের পক্ষে মাঠে নামছে এবং দলটির বহর সিন্ধুতে প্রবেশ করায় ক্ষমতাসীনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। করাচিতে কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই পিটিআইয়ের ২৯ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সূত্র: ডন