নতুন প্রদেশ ইস্যুতে শাহবাজের নীরবতায় পিপিপির প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনের বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ক্ষমতাসীন জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
পিপিপির পার্লামেন্টারিয়ানসের মহাসচিব নায়্যার হুসেইন বোখারি শুক্রবার ডনের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে কয়েকজন ফেডারেল মন্ত্রীর সমর্থনের কথা প্রকাশ্যে এলেও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ নিয়ে বিদ্যমান প্রদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানে নতুন ফেডারেল ইউনিট বা প্রদেশ গঠনের আলোচনা বিভিন্ন মহলে চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাবের উৎস বা কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আট থেকে ৩০টি পর্যন্ত নতুন প্রদেশ গঠনের সম্ভাব্য প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।
গত মাসে পার্লামেন্টে পিপিপির আইনপ্রণেতা আগা রাফিউল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে জাতীয় পরিষদে এসে নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বোখারি বলেন, সরকার সত্যিই প্রদেশের সংখ্যা বাড়াতে চাইলে প্রথমে বিষয়টি ফেডারেল মন্ত্রিসভায় তুলতে হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।
১৯৭৩ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময় সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কয়েক মাস ধরে আলোচনা হয়েছিল বলে মনে করিয়ে দেন বোখারি। একইভাবে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলেছিল এক বছরেরও বেশি সময়।
নতুন প্রদেশ গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রদেশগুলোর সম্মতি অপরিহার্য বলেও জানান তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনী জাতীয় পরিষদ ও সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করতে হবে।
বর্তমানে পিএমএল-এন নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় পরিষদে পিপিপির সমর্থনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভোগ করছে। ফলে পিপিপি সমর্থন প্রত্যাহার করলে নতুন প্রদেশ গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন বোখারি। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রেও সংবিধানের বিধান মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে সংবিধানের ১৪০-এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রদেশগুলোকেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন প্রদেশ গঠনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে শুক্রবার আবারও জানিয়েছেন পিএমএল-এনের নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে তিনি বলেন, নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে কোনো বিল বা প্রস্তাব পার্লামেন্টে তোলা হয়নি। এমন কোনো বিল বা প্রস্তাব আনার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্য প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।
বর্তমান চারটি প্রদেশের কোনোটি ভাগ করার বিষয়ে এখন কোনো আলোচনা চলছে না বলেও দাবি করেন রানা সানাউল্লাহ।
এর আগে বুধবার পিপিপি নেতৃত্বাধীন সিন্ধু প্রাদেশিক সরকার প্রাদেশিক পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস করিয়েছে। এতে পাকিস্তানের বিদ্যমান চার প্রদেশকে আর বিভক্ত না করার বিরোধিতা করা হয়েছে।
সূত্র: ডন