সংবাদ শিরোনাম

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা থেকে গরুর মাংস আনছে যুক্তরাষ্ট্র

 প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা থেকে গরুর মাংস আনছে যুক্তরাষ্ট্র


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসনের উদ্যোগে শুল্কমুক্ত গরুর মাংস ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে মাংসের উচ্চমূল্য কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার ওভাল অফিসে খামারি ও কৃষকদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে মাংস আসছে। আরও কয়েকটি দেশ থেকেও আমদানি করা হবে। আমদানি করা মাংসের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিদর্শকেরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

গত মাসে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ৯০ দিনের জন্য ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস আমদানিতে শুল্ক স্থগিত করা হবে। বাজারদরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম দামে এসব মাংস বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে মার্কিন ভোক্তাদের খরচ কমবে এবং একই সঙ্গে দেশটির খামারিরা গবাদিপশুর পাল বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

তবে ঘোষণার পরপরই এর বিরোধিতা করে মার্কিন গবাদিপশু শিল্প ও রিপাবলিকান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মার্কিন নাগরিকের জন্য মাংসের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার বোঝা যেন যুক্তরাষ্ট্রের খামারিদের ওপর না পড়ে।

ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, আমদানি খুব সীমিত পরিসরে করা হবে। তাঁর ভাষায়, মার্কিন খামারিরা এটি সামাল দিতে পারবেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, দেশের খামারিরাও মাংসের দাম কম দেখতে চান এবং তাঁদের কিছুটা সহায়তা প্রয়োজন।

এদিকে ব্রাজিলের এক ধনকুবের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছেন-এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসকে সিদ্ধান্তটির পক্ষে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুল্ক স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার এক দিন আগে বিশ্বের বৃহত্তম মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান জেবিএসের নিয়ন্ত্রণে থাকা জোসলে বাতিস্তার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প।

জোসলে বাতিস্তা ও তাঁর ভাই ওয়েসলি বাতিস্তাকে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জরিমানা করেছিল। অভিযোগ ছিল, ঘুষের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তাঁরা ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছিলেন।

এদিকে আর্জেন্টিনা থেকে আমদানি করা প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস প্রত্যাহারের একটি পৃথক ঘটনার পরই শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে। ওই মাংস টেক্সাস ও ফ্লোরিডায় সরবরাহ করা হয়েছিল।

শুক্রবার রেজল্যুট ডেস্কে বসে দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এর একটি অনুযায়ী, খামারি ও কৃষকেরা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য নিজেরাই জবাই, প্রক্রিয়াজাত, প্যাকেটজাত ও বিক্রি করতে পারবেন। অন্য আদেশে বিদেশি সব গরুর মাংসে উৎপাদনকারী দেশের নাম উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ধূসর নেকড়ের সুরক্ষা প্রত্যাহারের উদ্যোগসহ আরও কিছু বিষয় এতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংস শিল্পের চার বড় প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান-টাইসন ফুডস, জেবিএস, কারগিল ও ন্যাশনাল বিফ প্যাকিং কোম্পানি-শিল্পটির ওপর ‘একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি অনেক অভিযোগ শুনেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষক ও খামারিদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে নেয় এবং এর ফলে সাধারণ ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উৎপাদনকারী দেশের নাম উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ কবে কার্যকর হবে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি জানান, বিষয়টি দ্রুত কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে এবং এতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সূত্র: দ্য হিল