সংবাদ শিরোনাম

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত দুই

 প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত দুই


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ লেবাননের কাফর রেমানে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। হামলার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা আরও তীব্র হয়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ এলাকায় কৌশলগত আলি আল-তাহের রিজের কাছে ওই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা রিজটি দখলে নিয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ সেখানে নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ শুক্রবার দাবি করেছেন, কৌশলগত ওই রিজের নিচে থাকা সুড়ঙ্গগুলোতে অবস্থান নেওয়া হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণের সুবিধা থাকায় রিজটি দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তপ্ত সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে টাইর ও নাবাতিয়েহ জেলার আরও সাতটি শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও অভিযান চালানো হয়েছে। এসব হামলায় নতুন করে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এনএনএর তথ্য অনুযায়ী, টাইর জেলার আল-মানসুরি, মাজদাল জাউন, বুয়ুত আল-সাইয়াদ, বেইত লিফ ও স্রেব্বিনে এবং নাবাতিয়েহ জেলার জাওতার আল-শারকিয়াহ ও মায়ফাদুনে হামলা হয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা ‘ইয়েলো লাইন’-এর ওপারে একটি হিজবুল্লাহ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ওই এলাকাকে নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে দাবি করে আসছে। ড্রোন হামলার জবাবে দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালানো হবে বলেও সতর্ক করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও শহরগুলোতে এই হামলা এমন সময়ে চলছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ৪ ও ২৬ জুন দুটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

৪ জুনের যুদ্ধবিরতিতে হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা বন্ধ এবং লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নেওয়ার শর্ত ছিল। ২৬ জুনের কাঠামোগত চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি; বরং সেটিকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, গত ২ মার্চ লেবাননে ইসরায়েলের সর্বশেষ দফার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং অন্তত ১২ হাজার আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে হত্যা করা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর পর লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা আরও বিস্তৃত হয়। এরপর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে ইসরায়েল।

এদিকে শুক্রবার দক্ষিণ লেবানন থেকে আটক চার লেবানিজ নাগরিককে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মুক্তি দিয়েছে। তাদের আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে লেবাননের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর এক দিন আগে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতার আওতায় আরও এক লেবানিজ নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: আলজাজিরা