সংবাদ শিরোনাম

৭ অক্টোবর হামলার পর দুই ঘণ্টা বাড়িতেই নেতানিয়াহু

 প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

৭ অক্টোবর হামলার পর দুই ঘণ্টা বাড়িতেই নেতানিয়াহু ছবি-সংগৃহীত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা ও অনুপ্রবেশ শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অন্তত দুই ঘণ্টা তাঁর কায়সারিয়ার বাসভবনেই ছিলেন বলে ইসরায়েলি টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিনের নেতানিয়াহুর ডায়েরির অপ্রকাশিত নথি অনুযায়ী, তিনি সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্তও কায়সারিয়ায় থাকতে পারেন। এর অর্থ, সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি এলাকায় হামাসের যোদ্ধারা তাণ্ডব চালানোর সময়ও প্রধানমন্ত্রী সামরিক সদর দপ্তরের পথে রওনা হননি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেতানিয়াহুর দপ্তর ওই দিনের তাঁর কর্মসূচির কিছু নথি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে সামরিক সচিব তাঁকে হামাসের হামলার বিষয়ে জানান। এরপর গাড়িবহর প্রস্তুত করতে সময় লাগায় তিনি সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বাসা থেকে রওনা হন।

নেতানিয়াহুর দপ্তরের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, তিনি সকাল ৮টায় তেল আবিবের কিরিয়া সামরিক সদর দপ্তরে পৌঁছান। তবে শিন বেতের নথিতে তাঁর পৌঁছানোর সময় সকাল ৮টা ২২ মিনিট বলা হয়েছে।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে অবশ্য ডায়েরির অপ্রকাশিত নথির বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, নেতানিয়াহুর প্রকৃত পৌঁছানোর সময় ছিল সকাল ৯টা। আর একটি ‘বিশ্বস্ত সূত্র’ টেলিভিশনটিকে জানিয়েছে, তিনি সেখানে পৌঁছান সকাল সাড়ে ৯টার দিকে।

এ হিসাবে নেতানিয়াহু সম্ভবত সকাল সাড়ে ৮টা বা ৯টার আগে বাসা থেকে বের হননি। ওই সময় গাজা থেকে প্রবেশ করা হাজার হাজার হামাস যোদ্ধা ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালাচ্ছিল।

নিরাপত্তাপ্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন
নেতানিয়াহু চলতি সপ্তাহে দাবি করেছিলেন, সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত পাওয়ার পর নিরাপত্তাপ্রধানেরা যদি তাঁকে মাঝরাতে জাগিয়ে দিতেন, তাহলে তিনি ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও বিমানবাহিনীকে সক্রিয় করতেন।

কিন্তু চ্যানেল ১২ বলছে, সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে সামরিক সচিব তাঁকে ঘুম থেকে জাগানোর পর নেতানিয়াহু কোনো নিরাপত্তাপ্রধানকে ফোন করেননি। কিরিয়ায় পৌঁছানোর দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর তাঁদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়।

নেতানিয়াহুর দপ্তরের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, সামরিক সদর দপ্তরে তাঁর প্রথম পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠক শুরু হয় সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে।

এর আগে নিরাপত্তাপ্রধানদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ না থাকার সময়ে তিনি কী করছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকের প্রায় এক ঘণ্টা পর কিরিয়ায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, ‘আমরা যুদ্ধে আছি।’

৭ অক্টোবরের ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহের অস্পষ্টতা দূর করতে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে উঠছে। কিন্তু নেতানিয়াহু এ ধরনের কমিশন গঠনের উদ্যোগ আটকে রেখেছেন।

গ্যালান্ট পৌঁছেছিলেন আরও আগে
চ্যানেল ১২ আরও জানিয়েছে, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট সকাল ৭টা ৩০ মিনিটেই কিরিয়ায় পৌঁছেছিলেন। হামলার খবর পাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি সেখানে যান।

গ্যালান্টের বাসা কিরিয়া থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে আমিকাম শহরে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর কায়সারিয়ার ব্যক্তিগত বাসভবন সামরিক সদর দপ্তর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার কাছাকাছি।

এর এক দিন আগে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানায়, ঘুম থেকে ওঠার পর প্রায় তিন ঘণ্টা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কথা হয়নি। এ তথ্য প্রকাশের পর বিরোধী রাজনীতিকদের পাশাপাশি ৭ অক্টোবরের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন ও সাবেক জিম্মিদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠনও নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে।

‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামে সংগঠনটি বলেছে, ওই তিন ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহই রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে দেয়। তাদের দাবি, মিনিট ধরে তদন্ত করে জানতে হবে—কে কী জানতেন, কে কাকে ফোন করেছিলেন, কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কে দেননি এবং কেন স্বজনেরা জীবিত থাকা অবস্থায় রাষ্ট্র তাঁদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে পারেনি।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন দেশটির সর্বোচ্চ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। জাতীয় বিপর্যয় তদন্ত, সাক্ষীদের তলব এবং ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে এমন সুপারিশ করার ক্ষমতা এর রয়েছে, যা রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেও প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার কমিশন গঠন করলেও এটি স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং এর সদস্য নির্বাচন করেন বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নেতানিয়াহু এমন কমিশন গঠনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কমিশনের সদস্য নির্বাচন করবেন এবং তিনি মনে করেন, বিচার বিভাগ তাঁর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট।