সংবাদ শিরোনাম

পর্তুগালের শাসন থেকে মুক্তির ২০৪ বছর: আজ ব্রাজিলের স্বাধীনতা দিবস

 প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

পর্তুগালের শাসন থেকে মুক্তির ২০৪ বছর: আজ ব্রাজিলের স্বাধীনতা দিবস

শাহনুর রুমেন | ব্রাজিল, সাও পাওলো:

পর্তুগালের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতার ২০৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। ৭ সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের স্বাধীনতা দিবস “Dia da Independência do Brasil”। ১৮২২ সালের এই দিনে তৎকালীন প্রিন্স ডম পেদ্রো ইপিরাঙ্গা নদীর তীরে পর্তুগালের কাছ থেকে ব্রাজিলের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর ৭ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পালিত হয় জাতীয় দিবস।

এদিন ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার Esplanada dos Ministérios-এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সামরিক ও বেসামরিক কুচকাওয়াজ। এবারের আয়োজনের মূল তিনটি প্রতিপাদ্য—জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলা এবং ২০২৭ সালের নারী ফুটবল বিশ্বকাপ। কুচকাওয়াজে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন বেসামরিক ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বও থাকছে। 

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এরই মধ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্রাজিল কোনো দেশের উপনিবেশ নয় এবং ভবিষ্যতেও হবে না। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেওয়ার অধিকার ব্রাজিলের রয়েছে—এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি। 

লুলা তাঁর বক্তব্যে ব্রাজিলের প্রাকৃতিক সম্পদ, বিরল খনিজ, পানি ও তেলের মতো কৌশলগত সম্পদকে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি রূপান্তর ও বিশ্বশান্তিতে ব্রাজিলের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। 

এবারের স্বাধীনতা দিবসের আরেকটি বিশেষ দিক হলো ২০২৭ নারী ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী বছরের ২৪ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ব্রাজিলের আটটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ৬৪টি ম্যাচ। ফলে দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিক আয়োজনেও নারী ফুটবলের এই ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক আসরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

সাও পাওলোতেও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে Anhembi Sambadrome-এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এবারের দিনে শহরটিতে ঠান্ডা ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন ঘিরে মানুষের মধ্যে রয়েছে জাতীয় উৎসবের আমেজ। 

৭ সেপ্টেম্বর তাই ব্রাজিলের কাছে শুধু একটি সরকারি ছুটির দিন নয়—এটি দেশটির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।