বিমান ট্র্যাজেডির ক্ষত পেরিয়ে করিন্থিয়ান্সকে হারাল চাপেকোয়েন্সে
শাহনুর রুমেন | সাও পাওলো (ব্রাজিল):
২০১৬ সালের সেই ভয়াবহ বিমান ট্র্যাজেডি। মুহূর্তেই একটি ফুটবল দল হারিয়েছিল তার অধিকাংশ খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাকে। ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে পথচলা শুরু করা সেই চাপেকোয়েন্সে এবার সাও পাওলোর নিও কিমিকা অ্যারেনায় লিখল আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায়। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ২৬তম রাউন্ডে ঘরের মাঠের করিন্থিয়ান্সকে ২–১ গোলে হারিয়েছে টেবিলের তলানিতে থাকা দলটি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল করিন্থিয়ান্স। ম্যাচের মাত্র দুই মিনিটেই মাতেউস বিডুর গোলে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। মনে হচ্ছিল, ঘরের মাঠে সহজ জয়ই পেতে যাচ্ছে করিন্থিয়ান্স। কিন্তু ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই বদলেছে চিত্র।
প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটে চাপেকোয়েন্সের মার্সিনিও গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। বিরতির পরও লড়াই চালিয়ে যায় সফরকারীরা। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও গোল করে মার্সিনিও চাপেকোয়েন্সেকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২–১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অতিথিরা।
বল দখলে এগিয়ে ছিল করিন্থিয়ান্স, কিন্তু আক্রমণের শেষ মুহূর্তে কার্যকর হতে পারেনি তারা। বিপরীতে চাপেকোয়েন্সে সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে তুলে নেয় গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট। টেবিলের তলানিতে থাকা দলটির জন্য এই জয় তাই শুধু আরেকটি তিন পয়েন্ট নয়—আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও বড় উপলক্ষ।
অন্যদিকে, এই পরাজয় করিন্থিয়ান্সের চলমান সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে এটি দলটির টানা চতুর্থ হার। সাম্প্রতিক সময়ে জয়খরায় থাকা করিন্থিয়ান্সের জন্য ঘরের মাঠে এমন পরাজয় সমর্থকদের হতাশা আরও বাড়াবে।
তবে ম্যাচের ফলের বাইরেও চাপেকোয়েন্সের এই জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি গভীর ইতিহাস।
২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর কলম্বিয়ায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় চাপেকোয়েন্সের দলবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ৭১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ফুটবলার, কোচিং স্টাফ, ক্লাব কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা। মাত্র ছয়জন বেঁচে ফিরেছিলেন।
সেই দুর্ঘটনার পর চাপেকোয়েন্সেকে কার্যত শূন্য থেকে নতুন করে দল গঠন করতে হয়। ব্রাজিলের বিভিন্ন ক্লাব ও ফুটবল বিশ্বের সহযোগিতায় শুরু হয় তাদের পুনর্গঠন। ধীরে ধীরে মাঠে ফেরে ক্লাবটি, ফিরে আসে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলেও।
আজ সেই ট্র্যাজেডির প্রায় এক দশক পর, সাও পাওলোর নিও কিমিকা অ্যারেনায় করিন্থিয়ান্সের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকে ২–১ গোলে হারিয়ে চাপেকোয়েন্সে আবারও মনে করিয়ে দিল—ফুটবল কখনো কখনো শুধু ৯০ মিনিটের খেলা নয়; এটি ঘুরে দাঁড়ানোর, হার না মানার এবং নতুন করে বেঁচে ওঠার গল্প।