বিপদে ইনফান্তিনো, ভবিষ্যত নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ^কাপকে পন্য করার পরিকল্পনা করে বেশ বড় রকমের বিপদে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। একে একে তারওপর থেকে নিজেদের সমর্থন সড়িয়ে নিয়েছেন তাবৎ দুনিয়ার বেশিরভাগ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সবশেষ তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (ইউইএফএ)। ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করে সংস্থাটি। এরপরই ইনফান্তিনো ঘোষণা দেন, ফিফা তাদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার অংশীদারত্ব বিক্রির প্রস্তাব আর এগিয়ে নেবে না। এর আগে এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় উয়েফা। সংস্থাটি জানিয়েছিল, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও তারা বিবেচনা করবে। বিশ্বের আরও কয়েকটি আঞ্চলিক ফুটবল কনফেডারেশনও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে। পরিকল্পনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ‘পুরো ফুটবল বিশ্বের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে উয়েফা। তবে একই সঙ্গে তারা বলেছে, ফিফার প্রতি হারানো আস্থা পুনর্গঠনের কাজ এখনই শুরু হলো।
দীর্ঘ এই বিবৃতিতে উয়েফা বলেছে, ‘বর্তমান ফিফা নেতৃত্ব শুধু উয়েফারই নয়, ফুটবল পরিবারের আরও অনেক সদস্যের আস্থাও হারিয়েছে।’ বিবৃতিতে ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতির নির্বাচনের আগে ইনফান্তিনোর দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরা হয়। সে সময় তিনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছিলেন। পাশাপাশি বলেছিলেন, ফিফার অর্থ জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর এবং সেটি ফুটবলের উন্নয়নের জন্যই ব্যয় করা হবে। উয়েফার দাবি, এই দুই প্রতিশ্রুতির কোনোটিই রক্ষা করতে পারেননি ইনফান্তিনো। সংস্থাটির ভাষ্য, পর্দার আড়ালে করা অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে বিতর্কিত পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, যা স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গত মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়, বিশ্বকাপসহ ফিফার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। খবর প্রকাশের পরই শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। এর দুদিন পর উয়েফা জানায়, বিশ্বকাপকে কোনো বিনিয়োগ পণ্যে পরিণত করা উচিত নয়।
একই সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারিও দেয় তারা। এরপর উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করে। সংস্থাটির সদস্যদের বড় একটি অংশ ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েছে বা হারানোর পথে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) উয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর বলেন, সংস্থার প্রশাসনও এ প্রকল্প সম্পর্কে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছিল। একই দিন ফিফার বৈশ্বিক কৌশল ও সুশাসনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের সময় তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা ছিল ফুটবলের জন্য একটি খারাপ চুক্তি, যা ফুটবলের ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখত। এখন বিশ্বকাপ-পরবর্তী সংকটে ইনফান্তিনোর বিকল্প কে হতে পারেন? চারিদিকে তুমুল সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়েছে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে প্রস্তাবিত ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ পরিকল্পনা। তবে বিতর্ক থেমে গেলেও ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন থামেনি।
বরং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে উয়েফাসহ কয়েকটি মহাদেশীয় সংস্থা প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতির সমালোচনা করেছে। এমনকি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথাও জানিয়েছে উয়েফা। ২০১৬ সালে প্রথমবার ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় পুননির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। তবে ২০২৭ সালের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার সম্ভাব্য বিকল্প নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইনফান্তিনোর বিকল্প হিসেবে যে পাঁচজন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে, তারা হলেন নাসের আল খেলাইফি, ভিক্টর মোন্তালিয়ানি, আলেকসান্ডার সেফেরিন ও প্যাট্রিস মোটসেপে। তাদের মধ্য থেকে একজনকে ফিফা সভাপতি হিসেবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।