সংবাদ শিরোনাম

ইনজুরির নাটকীয় উন্নতিতে টেষ্ট দলে লিটন

 প্রকাশ: ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

ইনজুরির নাটকীয় উন্নতিতে টেষ্ট দলে লিটন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইনজুরি নিয়ে নাটকীয় উন্নতির কারণে প্রথম টেস্টের দলে ফিরেছেন লিটন কুমার দাস। অথচ কাফ মাসলের চোটে প্রায় দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকা এই উইকেটি কিপার ব্যাটারের নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। চোটের কারণে প্রথম  টেস্টের স্কোয়াডে ছিলেন না তিনি, কথা ছিল সেরে উঠলে খেলতে পারেন দ্বিতীয় টেস্ট। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য দারুণ খবর হলো, প্রথম টেস্টের স্কোয়াডেই যুক্ত হচ্ছেন তিনি। শনিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম  টেস্টে লিটনের দলভুক্ত হওয়ার খবর দিয়েছে বিসিবি। বিসিবি জানায়, ‘বাঁ পায়ের বাছুরের চোট থেকে সেরে ওঠার ইতিবাচক অগ্রগতির পর, ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলে লিটন কুমার দাসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ ঘরের মাঠে গত ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে চোটে পড়েন লিটন। এই চোট শুরুতে তেমন গুরুতর মনে হয়নি। তবে বিস্মযয়রভাবে তার মাঠে ফেরা দীর্ঘতর হতে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর জিম্বাবুয়েতে গিয়েও মাঠে নামতে পারেননি তিনি। দেশে ও সিঙ্গাপুরে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে দ্বিতীয় টেস্টে তার মাঠে ফেরার আশা ছিল। সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রথম টেস্টের আগেই ফিট হয়ে গেলেন তিনি। 

বিসিবি বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানা যায়, ‘৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান চোটের কারণে জুন মাস থেকে মাঠের বাইরে ছিলেন, তবে তার পুনর্বাসন কর্মসূচিতে তিনি ভালো সাড়া দিয়েছেন এবং প্রথম টেস্টের একাদশ নির্বাচনের জন্য বিবেচনায় থাকবেন। দলের সঙ্গে যোগ দিতে তিনি রবিবার ডারউইনের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন।’ লিটন যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ দলের সদস্য সংখ্যা বাড়ল। নিশ্চিতভাবেই দলের ব্যাটিং লাইনআপ পেল ভরসা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে শুক্রবার রাতে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম বহর। তারা ডারউইনে পৌঁছানোর আগেই দারুণ সুখবর পেয়ে গেল দল। কাকতালীয়ভাবে চোট কাটিয়ে প্রথম ম্যাচ থেকেই দলের সঙ্গে থাকবেন লিটন কুমার দাস। 

বাম পায়ের পেছনের দিকের পেশির চোটে গত জুন থেকে মাঠের বাইরে লিটন। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার পর বিসিবি জানিয়েছিল, চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে ফিরতে অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্ট শেষ হয়ে যাবে। তাই লিটনকে ছাড়াই ঘোষণা করা হয়েছিল ডারউইন টেস্টের স্কোয়াড। তবে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতই সেরে উঠেছেন ৩১ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটার। তাই নতুন করে লিটনকে যুক্ত করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়াগামী প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে। অজিদের বিপক্ষে অতীতের পরিসংখ্যান খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া (যাদের একত্রে ‘সেনা’ দেশ বলা হয়) মিলিয়ে খেলা ২৫টি টেস্টের মধ্যে টাইগাররা জিতেছে মাত্র একটিতে। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, আগামী ডারউইনে অজিদের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া দুই টেস্টের সিরিজে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের জন্য কতটা কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য ‘সেনা’ দেশগুলোতে সাফল্য পাওয়াটা দীর্ঘকাল ধরেই টেস্ট ক্রিকেটের চূড়ান্ত মানদন্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ঘাসে ঢাকা পিচ, অতিরিক্ত বাউন্স, টানা সিম মুভমেন্ট ও অপরিচিত কন্ডিশন সফরকারী এশিয়ান দলগুলোর পারফরম্যান্সকে প্রায়ই কঠিন করে তোলে। 

আর সেখানে বাংলাদেশকেই সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করতে হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছে। এর দুটিই ছিল ২০০৩ সালে দেশটিতে তাদের প্রথম সফরে এবং দুটি ম্যাচেই তারা ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল। ইংল্যান্ডের মাটিতে চারটি টেস্ট খেললেও টাইগাররা এখনও জয়হীন। এছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা আটটি ম্যাচের সবকটিতেই হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। একমাত্র নিউজিল্যান্ড সফরই কিছুটা আলোর দিশা দেখাতে পেরেছে বাংলাদেশকে। ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে বাংলাদেশের সেই স্মরণীয় ৮ উইকেটের জয় কেবল ক্রিকেট বিশ্বকেই চমকে দেয়নি, বরং ‘সেনা’ভুক্ত চারটি দেশ মিলিয়ে এটিই এখন পর্যন্ত টাইগারদের একমাত্র টেস্ট জয়। উপমহাদেশের অন্যান্য দলগুলোর সাথে তুলনা করলেই বাংলাদেশের এই ভোগান্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘সেনা’ দেশগুলোতে এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সফল ভারত, যারা এই চার দেশে মোট ৩১টি টেস্ট জিতেছে। এরপরই আছে পাকিস্তান (২৮টি জয়) ও শ্রীলঙ্কা (৯টি জয়)। বাংলাদেশের ¯্রফে ওই একটি জয় প্রমাণ করে যে, দেশের বাইরে তাদের পথচলা কতটা কঠিন। তবে ভারতও ‘সেনা’ দেশগুলোতে ১৭৯টি টেস্ট খেলে ৯৪টিতে হেরেছে, যা এশিয়ার যেকোনো দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দলটিকেও সেখানে ভীষণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। 

প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ স্কোয়াড 

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক সৌরভ, মুশফিকুর রহিম, অমিত হাসান মজুমদার, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী, মুশফিক হাসান ও লিটন কুমার দাস।

Advertisement
Advertisement
Advertisement