খরা মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ন্যায্য পানি বণ্টনের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

খরা সহনশীলতা বাড়াতে ন্যায্য পানি বণ্টনের আহ্বান

 প্রকাশ: ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

খরা মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ন্যায্য পানি বণ্টনের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর খরা মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান

ঢাকা, ২৫ আগস্ট:

খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (UNCCD)-এর ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর ‘Accelerating Drought Resilience’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।

খরা ও ভূমি অবক্ষয় পরস্পর সম্পর্কিত

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে খরা ও ভূমি অবক্ষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিয়মিত খরা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও কমছে। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসের ক্ষতি করছে।

এর সঙ্গে বন্যা ও নদীভাঙনের প্রভাব যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের পানি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার সংকট আরও জটিল করে তুলছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। এসব এলাকায় প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে অনেক স্থানে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে এসব এলাকায় নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে।

কৃষকদের খরা মোকাবিলায় ডিজিটাল পরামর্শ

খরা মোকাবিলায় বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-মেটিওরোলজিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমস (BAMIS)-এর মাধ্যমে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের এসএমএস, ভয়েস কল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকেরা খরার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফসল উৎপাদন ও সেচ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন।

পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার জলাশয় খননের উদ্যোগ

মন্ত্রী আরও বলেন, ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকৃতিনির্ভর খরা মোকাবিলার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা পানিসংকটপ্রবণ অন্যান্য দেশের জন্যও কার্যকর হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় সহযোগিতার আহ্বান

পরিবেশমন্ত্রী গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, বাংলাদেশের National Adaptation Plan-এ ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামোর আহ্বান

পরিবেশমন্ত্রী International Drought Resilience Observatory চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের BAMIS-এর তথ্য এই ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরও জোরদারের আহ্বানও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের তীব্র ঝুঁকির মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতিমূলক, পর্যাপ্ত অর্থায়নসমৃদ্ধ এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তুলতে UNCCD-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

সভায় বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলের প্রধানরা অংশ নেন। এছাড়া FAO, ESCAP, IOM, UNICEF, UNDRR, UNDP, IFAD, AIIB, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।