খেলাধুলাকে পেশার স্বীকৃতি, চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ
আগামী বছর থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর ৮ ইভেন্টের বই স্কুলে চালুর পরিকল্পনা
মুন্সীগঞ্জে ফুটবল টুর্নামেন্টের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকমুন্সীগঞ্জ, ২৫ আগস্ট:
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে ডিভাইস ও মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা ছড়িয়ে দিতে খেলাধুলাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খেলাধুলাকে পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে।
তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম পর্ব সফলভাবে শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের মাদক ও ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে খেলাধুলা
শিক্ষাব্যবস্থায় খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে।
তিনি জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর আটটি ইভেন্টের ওপর বই লেখার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছর থেকেই এসব বই স্কুলে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে দেশে নতুন ক্রীড়া প্রতিভা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্যের সুযোগ আরও বাড়বে।
পাঁচ বছরে আধুনিক হবে জেলার স্টেডিয়াম
দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হবিগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামের ডান পাশের গ্যালারি নির্মাণসহ প্রেস বক্স ও ড্রেসিং রুম সংস্কারের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ইনডোর সুবিধা ও জিমনেসিয়াম তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে।
এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলার স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সব জেলার সুইমিংপুল দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত।