বাজেট ২০২৬-২৭: কোন পণ্যের দাম বাড়বে, কোনটি কমবে?

 প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

বাজেট ২০২৬-২৭: কোন পণ্যের দাম বাড়বে, কোনটি কমবে?

ঢাকা, ১১ জুন:

বিএনপি সরকারের বর্তমান মেয়াদের প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের সময় তিনি বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।

বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এসব শুল্ক ও কর প্রস্তাব কার্যকর হয়েছে। ফলে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আবার বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ভোক্তাপণ্যের দাম কমার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্য

সিগারেটের সব স্তরেই খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে।

পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলচালিত গাড়ি

পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ সিসির আমদানি করা তেলচালিত গাড়ির করহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব গাড়ির বাজারমূল্য বাড়তে পারে।

বিদেশি কাজুবাদাম

দেশীয় উৎপাদন সুরক্ষায় প্রক্রিয়াজাত ও অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। ফলে আমদানিনির্ভর কাজুবাদামের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিদেশি পাঙাশ ফিলে

দেশীয় মৎস্য খাতকে সুরক্ষা দিতে আমদানি করা পাঙাশ ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

কম্পোজিট গ্যাস সিলিন্ডার

আমদানিকৃত কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর ভ্যাট আরোপ করায় এর বাজারদর বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদেশি মধু ও সুপারি

শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিদেশি মধু ও সুপারির আমদানি ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়তে পারে।

আমদানিকৃত খাদ্যপণ্য

কফি, সুগার কনফেকশনারি ও বিভিন্ন প্রস্তুত খাদ্যের ওপর শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

প্রসাধনী সামগ্রী

বিদেশি লিপ লাইনার, লিপ জেল ও অনুরূপ পণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

নির্মাণসামগ্রী

রড উৎপাদনের কাঁচামালে ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে নির্মাণ খাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ রডের দাম বাড়তে পারে।

অন্যান্য

বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, বেসিন, ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল, খেলনা ও বিভিন্ন আমদানিকৃত পণ্যের দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য

ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। এতে ভোক্তাপর্যায়ে মূল্য হ্রাসের সুযোগ তৈরি হবে।

শিশুখাদ্য

শিশুখাদ্য প্রস্তুতের কাঁচামালে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমতে পারে।

মসলা

জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়াসহ বিভিন্ন মসলার ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

খেজুর

খেজুর আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে নেওয়ায় এ পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে।

সোনার গয়না

সোনা সরবরাহে উৎসে কর ও ভ্যাট কাঠামোয় বড় ধরনের ছাড় দেওয়ায় গয়না ক্রেতারা স্বস্তি পেতে পারেন।

বৈদ্যুতিক গাড়ি

ইলেকট্রিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর করহার কমানো হয়েছে। পাশাপাশি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের সরঞ্জামেও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

ল্যাপটপ ও কম্পিউটার

ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, মনিটর ও প্রিন্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করায় এসব প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা

ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করায় প্রতি ডায়ালাইসিসে রোগীর ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

ওষুধ

ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল ও ক্যানসারের ওষুধ তৈরির কয়েকটি উপকরণে শুল্ক ছাড় দেওয়ায় ওষুধ উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে।

বাদ্যযন্ত্র ও চলচ্চিত্র সরঞ্জাম

গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে।

অন্যান্য

বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) যন্ত্র, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন ভোক্তাপণ্যের দামও কমতে পারে।


Advertisement
Advertisement
Advertisement