উপজাত থেকেই সম্পদ: শিল্প খাতে ‘সার্কুলার ইকোনমি’ গড়তে নতুন উদ্যোগ সরকারের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিল্প কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট উপজাত ও বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করে টেকসই শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিল্পের বিভিন্ন বাই-প্রোডাক্টকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের (সিলেট-৫) এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদিত বিভিন্ন উপজাত ইতোমধ্যে নানাভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব উপজাত থেকে আরও অধিক মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীন পরিচালিত চিনিকলগুলোতে উৎপাদিত মোলাসেস দীর্ঘদিন ধরে কেরু ডিস্টিলারিতে অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে কেরু সুগার মিলের ‘প্রেস মাড’ থেকে জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, নাটোরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলসকে আধুনিক কৃষিভিত্তিক বহুমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এবং চুয়াডাঙ্গার কেরু ডিস্টিলারিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশসম্মত লাভজনক শিল্প ইউনিটে রূপান্তরের লক্ষ্যে পৃথক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। এসব সমীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ী ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
চামড়া শিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও মূল্য সংযোজনের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চীনা বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত একটি কারখানায় ক্রোম শেভিং ডাস্ট থেকে প্রোটিন পাউডার এবং চামড়ার অবশিষ্টাংশ থেকে জেলাটিন উৎপাদন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্যানারির ফ্লেশিং বর্জ্য থেকে ট্যালো উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ট্যানারি শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার থেকে উৎপন্ন স্লাজ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে টাইলস তৈরি করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের আওতাধীন কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে উৎপাদিত উপজাত সাধারণত একই উৎপাদন চক্রে পুনরায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে সেখানকার উপজাত থেকে আলাদা পণ্য তৈরির প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না বলে জানান মন্ত্রী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা, শিল্পবর্জ্য কমানো এবং পরিবেশবান্ধব চক্রাকার শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার শিল্পের উপজাত ব্যবহারে নতুন নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে।