জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সংসদীয় কমিটির ১২ দফা সুপারিশ
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং
ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রতিরোধে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১২ দফা সুপারিশমালা উপস্থাপন
করেছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে কৌশলগত জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার ডিজিটাল
নজরদারি এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল জ্বালানি
খাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে ১০ সদস্যের একটি
বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে
কমিটি ৩ মে ও ১৯ মে অনুষ্ঠিত দুটি বৈঠকে আলোচনা শেষে সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করে।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান মজুদ সক্ষমতা বাড়িয়ে অন্তত তিন মাসের
কৌশলগত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন
দেশ ও উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে
সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় এনে ডিজিটাল মনিটরিং চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি
অবৈধ মজুদ, চোরাচালান ও পাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের সুপারিশও রয়েছে।
কমিটি বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার
বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে এলএনজি, সৌরশক্তি, বায়ুশক্তিসহ নবায়নযোগ্য
জ্বালানির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন,
সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল-২)
সম্প্রসারণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির
কর্মসূচি সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাশাপাশি বেসরকারি
খাতের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা যাচাইয়ে গবেষণা পরিচালনা এবং রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ
ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া স্থাপিত সৌর প্যানেল কার্যকরভাবে
পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সিস্টেম লস কমাতে কার্যকর পরিকল্পনা
গ্রহণ এবং তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত রোডম্যাপ
তৈরির প্রস্তাবও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।
এছাড়া কমিটির কার্যপরিধির সঙ্গে
সামঞ্জস্য রেখে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ পাওয়া গেলে তা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে
অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।