রামিসা হত্যা মামলার বিচার ৬ কার্যদিবসে সম্পন্ন ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ আইনমন্ত্রীর

 প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

রামিসা হত্যা মামলার বিচার ৬ কার্যদিবসে সম্পন্ন  ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ আইনমন্ত্রীর

ঢাকা, ২৪ জ্যৈষ্ঠ (৭ জুন):  

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রামিসা হত্যা মামলার বিচার দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন দ্রুততায় সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছে, যা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

আজ সচিবালয়ে রামিসা হত্যা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৯ মে সংঘটিত ঘটনার তদন্ত ২৪ মে’র মধ্যেই সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ১ থেকে ৪ জুনের মধ্যেই অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির জবানবন্দি ও যুক্তিতর্ক শেষে ৭ জুন রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই এক মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিলের প্রস্তাব প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতির সম্মতিতে শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির আওতার বাইরে রাখা সম্ভব হওয়ায় বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া গেছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আসামিপক্ষের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিচার প্রক্রিয়ার কোনো ধাপ নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন না ওঠে। বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করেই এই রায় হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হবে। সরকারের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট আদালত বিষয়টিকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিবেচনা করলে পরবর্তী বিচারিক ধাপগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজন, রাকিব ও আছিয়া হত্যা মামলাসহ কয়েকটি আলোচিত মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হলেও উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। সরকার এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র কঠোর আইন প্রণয়ন করলেই এ ধরনের অপরাধ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব নয়। সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা এবং সামগ্রিক সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেও এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার বিশেষায়িত বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে এবং শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক আদালত ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে।

শেষে মন্ত্রী বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রসিকিউশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।


Advertisement
Advertisement
Advertisement