সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন (৯ম) পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে সরকার: ধাপে ধাপে বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি

 প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন (৯ম) পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে সরকার: ধাপে ধাপে বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার: 

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নতুন (৯ম) পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। নীতিগতভাবে অনুমোদিত এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এ লক্ষ্যে বাজেটে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার চিন্তাভাবনা চলছে।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভর্তুকি ব্যয়ের বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ঋণের সুদ পরিশোধের বাড়তি চাপের মধ্যেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতা বিবেচনায় এনে নতুন পে স্কেলের সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী নতুন পে স্কেল একবারে নয়, বরং তিনটি পর্যায়ে কার্যকর করা হবে।

  • প্রথম ধাপ (২০২৬–২৭ অর্থবছর): কর্মচারীদের মূল বেতনের একটি বড় অংশ বৃদ্ধি করা হবে, যা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
  • দ্বিতীয় ধাপ (২০২৭–২৮ অর্থবছর): অবশিষ্ট মূল বেতন সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
  • তৃতীয় ধাপ (২০২৮–২৯ অর্থবছর): বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শেষ করা হবে।

বেতন বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ

নতুন বেতন কাঠামোর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন বৈষম্য হ্রাসের প্রচেষ্টা। প্রস্তাবিত সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান বর্তমানে প্রায় ১:৯.৪ থাকলেও তা কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করা হতে পারে।
  • ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১,৬০,০০০ টাকা হতে পারে।
  • বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা

নতুন কাঠামোয় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য পৃথক যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা সরাসরি উপকৃত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পেনশনভোগীরাও পেতে পারেন সুবিধা

নতুন পে স্কেলের সুফল শুধু কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীও এর আওতায় আসতে পারেন। বিশেষ করে কম পেনশনপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

মহার্ঘ ভাতা নিয়ে চলছে পর্যালোচনা

বর্তমানে কার্যকর থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কাজ করছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, নতুন (৯ম) পে স্কেল বাস্তবায়নের এই উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন, বরাদ্দের পরিমাণ এবং কার্যকর হওয়ার সময়সূচি সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও বাজেট ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement