জাতীয় বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদ সদস্যদের অর্থনীতি, জননীতি ও সংসদীয় কার্যক্রম বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুই দিনব্যাপী একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে।
রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি: সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক এ কর্মশালায় দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিভাগ আয়োজিত কর্মশালাটি শুক্রবার শুরু হয়ে শনিবার সমাপ্ত হয়।
সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট অধিবেশনে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় বিশেষ বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। বক্তারা সংসদীয় কার্যপ্রণালি, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুই দিনের কর্মশালায় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন এবং বাজেট বিশ্লেষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া সংসদে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ উপস্থাপনের কৌশল এবং কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
কর্মশালায় সাবেক সংসদ সদস্য, অর্থনীতিবিদ, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, বাজেট বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদরা প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা জাতীয় অর্থনীতি ও উন্নয়ন নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংসদ সদস্যদের বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
কর্মশালার প্রশিক্ষক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জাতীয় বাজেট অধিবেশন দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সংসদ সদস্যরা যাতে অর্থবিল, উন্নয়ন বরাদ্দ, নির্বাচনী এলাকার চাহিদা এবং দলীয় অঙ্গীকারসমূহ যথাযথভাবে সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা বাজেট অধিবেশনসহ সংসদীয় কার্যক্রমে আরও দক্ষ, দায়িত্বশীল ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন।