সংবাদ শিরোনাম

ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুতে রেকর্ড টোল আদায়: ২৪ ঘণ্টায় পার হলো প্রায় ৪০ হাজার যানবাহন

 প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুতে রেকর্ড টোল আদায়: ২৪ ঘণ্টায় পার হলো প্রায় ৪০ হাজার যানবাহন

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা আর কর্মস্থলে ফেরার চিরায়ত টানাপোড়েনে প্রতি ঈদেই দেশের মহাসড়কগুলো উৎসবমুখর ও ব্যস্ত হয়ে ওঠে। এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি, যার এক অনন্য চিত্র ফুটে উঠেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত যমুনা সেতুতে। উৎসবের আমেজে ঘরমুখো ও কর্মস্থলমুখী মানুষের তীব্র স্রোতে গত ২৪ মার্চ যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের ধুম লেগে যায়। দিনভর ও রাতভর গাড়ির চাকা ঘোরার সাথে সাথে সেতু কর্তৃপক্ষের টোল আদায়ের খাতায় জমা হয়েছে এক বিশাল অঙ্কের রাজস্ব। মাত্র এক দিনেই যমুনা সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে মোট তিন কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় রেকর্ড।

সেতু বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই সুনির্দিষ্ট সময়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মোট ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। প্রতি বছর ঈদের সময় যমুনা সেতুতে গাড়ির যে বিপুল চাপ তৈরি হয়, এবারও তার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা গেছে টোল প্লাজাগুলোতে। তবে এবার উত্তরবঙ্গগামী এবং ঢাকামুখী—উভয় প্রান্তেই যানবাহনের চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণত ঈদের আগে একমুখী চাপ থাকলেও, এবার ছুটির বিন্যাস ও মানুষের যাতায়াতের ধরনে কিছুটা ভিন্নতা থাকায় উভয় পাশেই সমানতালে গাড়ি চলেছে।

সেতুর দুই প্রান্তের টোল আদায়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের ব্যস্ততা এবং রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল প্রায় কাছাকাছি। যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় দিয়ে, অর্থাৎ ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে মোট ২২ হাজার ১১২টি গাড়ি পারাপার হয়েছে। এই প্রান্ত থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের তহবিলে জমা হয়েছে এক কোটি ৬২ লাখ ৩৫ হাজার ২৫০ টাকা। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার দিকে আসা পশ্চিম পাড়ের লেনে গাড়ি পারাপারের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৮০৭টি। গাড়ি পারাপারের সংখ্যায় কিছুটা কম হলেও বড় এবং ভারী যানবাহনের আধিক্যের কারণে এই প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ৪০০ টাকা, যা পূর্ব পাড়ের চেয়েও সামান্য বেশি। দুই পাড়ের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই প্রমাণ করে যে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ যেমন শহর ছেড়েছে, তেমনি জরুরি প্রয়োজনে অনেকের কর্মস্থলে ফেরার তাগিদও ছিল সমান।

যানবাহনের এই বিশাল চাপ এবং বিপুল পরিমাণ টোল আদায়ের বিষয়ে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বিশেষ আলোকপাত করেছেন। তিনি জানান, ঈদের সময়গুলোতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামায় মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবেই গাড়ির সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। একই সাথে ঈদের ঠিক আগে ও পরে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের একটা বাড়তি চাপ তৈরি হয়, যার ফলে সেতুতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই যানবাহনের চাকা সচল থাকে। এই সময়ে স্বাভাবিক দিনগুলোর তুলনায় টোল আদায়ের পরিমাণও অনেক বৃদ্ধি পায়।

তবে এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন সামাল দেওয়া সেতু কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। মহাসড়কে যেন কোনো ধরনের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি না হয় এবং সাধারণ মানুষকে যেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকতে না হয়, সেজন্য সেতু কর্তৃপক্ষ আগাম বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। টোল প্লাজার বুথ সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট এবং দ্রুত স্ক্র্যানিং প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা হয়েছিল। হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং সেতু কর্তৃপক্ষের যৌথ নজরদারি ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে বিপুল সংখ্যক গাড়ির চাপ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই এই বিশাল যজ্ঞ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার একটি সফল উদাহরণ।