শেষ হলো বাংলাদেশিদের নিরাপদ হজ যাত্রা: মক্কা-মদিনায় ২৪ হজযাত্রীর চিরবিদায়
নিউজ ডেস্ক:
পবিত্র হজের পুণ্যভূমিতে যাওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এ বছর বাংলাদেশ থেকে রওনা হওয়া লাখো কণ্ঠের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত এখন সৌদি আরব। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরের পবিত্র হজের সব বাংলাদেশি ফ্লাইট অত্যন্ত সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিবন্ধিত ও অপেক্ষমাণ সব হজযাত্রী ইতিমধ্যেই নিরাপদে সৌদির পবিত্র ভূমিতে পৌঁছেছেন। তবে হজ পালনের এই মহিমান্বিত যাত্রার মধ্যেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সৌদিতে গিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ২৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। প্রিয়জনদের বিদায় জানিয়ে আল্লাহর ঘরে হাজির হওয়া এই পুণ্যবানদের চিরতরে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্ক।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিদিনের নিয়মিত বুলেটিন থেকে জানা যায়, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সৌদিতে পাঠানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে মোট ২০১টি বিশেষ হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মক্কা ও মদিনায় পৌঁছেছেন। এবারের যাত্রায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে পবিত্র ভূমিতে পা রেখেছেন ৭৩ হাজার ৯২৬ জন। হজকে কেন্দ্র করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়ান এয়ারলাইনস ও ফ্লাইনাসের বিশেষ ফ্লাইটগুলো অত্যন্ত সুনামের সাথে শিডিউল ধরে রেখে যাত্রী পরিবহন সম্পন্ন করেছে।
কাবা শরিফ তাওয়াফ আর আরাফাতের ময়দানে আত্মসমর্পণের এই মহৎ সফরের মাঝেই ২৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে এক মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পবিত্র মক্কা ও মদিনার মাটিতে মৃত্যু অত্যন্ত সৌভাগ্যের ও মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হলেও, স্বজন হারানোর বেদনা পরিবারগুলোকে শোকাচ্ছন্ন করে তুলেছে। এই ২৪ জনের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, ইসলামের মূল কেন্দ্রবিন্দু পবিত্র মক্কায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বা স্বাভাবিকভাবে ইন্তেকাল করেছেন ১৫ জন এবং মহানবীর (সা.) রওজা মোবারক জিয়ারত করতে গিয়ে পবিত্র মদিনায় মারা গেছেন ৯ জন। সর্বশেষ গত ২২ মে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা ৬১ বছর বয়সী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মক্কায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, সেখানে মারা যাওয়া মুসলিমদের পবিত্র আইনি প্রক্রিয়া শেষে মক্কা ও মদিনার নির্ধারিত কবরস্থানেই দাফন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো হাজি শেষ শয্যায় শায়িত হন।
এদিকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পূর্বমুহূর্তে সৌদি আরবের বাংলাদেশ হজ মিশন, চিকিৎসক দল এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা হজযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তীব্র গরম ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ হাজিদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, পবিত্র হজের সমস্ত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও খুতবা সমাপ্তির পর আগামী ৩০ মে থেকে বাংলাদেশিদের নিয়ে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। নিজ দেশে স্বজনদের কাছে হাজিদের ফিরিয়ে আনার এই ফিরতি যাত্রা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে হজ কর্তৃপক্ষ। মিশন কর্মকর্তারা আশা করছেন, যাওয়ার মতো ফেরার যাত্রাও সমান নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হবে।