সংবাদ শিরোনাম

ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্থিতিশীল: সেনাপ্রধান

 প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্থিতিশীল: সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্ক :

​বিগত ২০২৪ সালের এক মহা ক্রান্তিকালে দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘ ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে মাঠপর্যায়ে নিরলস দায়িত্ব পালন শেষে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। আর এই অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ার পর সেনাসদস্যরা পর্যায়ক্রমে তাদের নিয়মিত ঠিকানা ব্যারাকে ফিরে যেতে শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

​বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেনাপ্রধান দেশের ওই জটিল সময়ে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, দেশের চরম সংকটে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের সেই বিশেষ পরিস্থিতিতেও দেশের স্বার্থেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি সাধারণ সৈনিক থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংকটের দিনে সেনাবাহিনীর এই আপসহীন ও দেশপ্রেমিক ভূমিকা বাঙালি জাতি চিরকাল গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

​দীর্ঘ দেড় বছর মাঠপর্যায়ের কঠিন ও মানসিক চাপযুক্ত দায়িত্ব পালন শেষেও সেনাসদস্যরা তাদের পেশাগত দক্ষতার চমৎকার স্বাক্ষর রেখেছেন। কুমিল্লা সেনানিবাসের এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় সেনাসদস্যদের প্রদর্শিত নিশানা ও নিপুণতা দেখে সেনাপ্রধান গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, টানা ১৮ মাস প্রতিকূল পরিবেশে মাঠের দায়িত্ব সামলানোর পরও ফায়ারিংয়ের মতো অত্যন্ত মনোযোগ ও দক্ষতার খেলায় সৈনিকেরা যে অসামান্য নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এটি প্রমাণ করে যে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মান ও পেশাদারিত্ব অটুট থাকে। বক্তব্য শেষে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এবং রানারআপ দলের সদস্যদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

​সেনাসদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত ১৬ মে এই ঐতিহ্যবাহী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। এবারের আসরটি ছিল বেশ জমজমাট ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অঞ্চলের ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং চৌকস প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ সর্বমোট ১৭টি শক্তিশালী দল অংশ নেয়। বেশ কয়েকদিনের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে নিখুঁত নিশানার ওপর ভর করে এবারের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ১৭ পদাতিক ডিভিশন। অন্যদিকে, নিজেদের চিরচেনা সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে রানারআপ ট্রফি নিজেদের করে নেয় প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড।

​সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী এই অনুষ্ঠানটি সামরিক ঐতিহ্যের সবটুকু মর্যাদা মেনে সম্পন্ন হয়। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স (এমজিও), কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়া এবং জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সিলেট এরিয়াসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন ফরমেশনের পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদবির সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে পুরো সেনানিবাস এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেনাপ্রধানের এই ঘোষণা এবং সৈনিকদের ব্যারাকে ফেরার প্রক্রিয়া মূলত দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও বেসামরিক প্রশাসনের সক্ষমতা পুনর্প্রতিষ্ঠার এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে।