হৃদয়ে রক্তক্ষরণ: চেন্নাইয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন কায়সার হামিদের মেয়ে কারিনা
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
মৃত্যু কখনো কখনো এত আকস্মিক আর নির্মম হয়ে আসে যে, তা মেনে নেওয়াটা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজে পরিণত হয়। ঠিক তেমনই এক বুকভাঙা বেদনার ছায়া নেমে এসেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও বিনোদন জগতে। লিভারের গুরুতর জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, প্রতিভাবান চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। গত শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যরাতে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার কায়সার হামিদের অত্যন্ত আদরের জ্যেষ্ঠ কন্যা।
কারিনার এই অকাল প্রস্থান যেন এক ঝড়ের মতো ওলটপালট করে দিয়েছে তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জীবন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি লিভার সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। শুরুতে এটিকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করা হলেও, খুব দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও যখন দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছিল না, তখন গত ১১ মে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে, চেন্নাইয়ের চিকিৎসকদের সব চমত্কার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে মাত্র কয়েকদিনের মাথায় ওপারে পাড়ি জমালেন এই তরুণ প্রাণ।
মেয়ের চলে যাওয়ার পর মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক বার্তা শেয়ার করেন শোকস্তব্ধ বাবা কায়সার হামিদ। একজন ফুটবলার হিসেবে মাঠ কাঁপানো এই মানুষটি মেয়ের শোকে আজ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।’ বিপদের দিনে যারা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সবার কাছে মেয়ের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও বেহেশত নসিবের জন্য দোয়া চেয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় কারিনা কায়সার ছিলেন এক পরিচিত ও পজিটিভ মুখ। নিজের সাবলীল উপস্থাপনা আর চমত্কার কনটেন্ট দিয়ে খুব অল্প সময়েই তিনি জয় করেছিলেন লাখো মানুষের মন। তবে তার মেধা কেবল স্ক্রিনের সামনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, পর্দার পেছনেও তিনি নিজের প্রতিভার এক অনন্য স্বাক্ষর রেখে গেছেন। দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’-এর জনপ্রিয় অরিজিনাল সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’-এর চিত্রনাট্যকার হিসেবে তার কাজ দর্শক ও সমালোচক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। একই সাথে এই কাজগুলোতে অভিনেত্রী হিসেবেও তিনি নিজের জাত চিনিয়েছিলেন।
তার এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের বিনোদন অঙ্গন এবং ক্রীড়ামোদী মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সহকর্মী, বন্ধু ও ভক্তরা স্তব্ধতা ও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন। কায়সার হামিদের পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা যেন কারও জানা নেই। সবার মনে এখন একটাই প্রার্থনা—ওপারের পৃথিবী যেন কারিনার জন্য শান্তিময় হয়।