উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশের পাশে জাতিসংঘ: সেনাপ্রধানের সঙ্গে ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াকের বৈঠক
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বিশ্বশান্তি রক্ষা থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন—সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে পাশে থাকার নতুন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। বুধবার সেনাসদর দপ্তরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান-এর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে এই সংহতির কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক।
বন্ধুত্বের নতুন দিগন্ত
গত ২৩ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল সেনাপ্রধানের সঙ্গে আবাসিক সমন্বয়কারীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় জাতিসংঘ কেবল একটি সংস্থা নয়, বরং একটি অবিচল অংশীদার। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে জাতিসংঘের সকল সংস্থা তাদের সর্বাত্মক কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
নীল হেলমেটের বীরত্বে মুগ্ধ জাতিসংঘ
বৈঠকে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসামান্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। বর্তমান বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো যখন চরম চ্যালেঞ্জের মুখে, তখনো বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারত্ব ও ত্যাগ বিশ্ব দরবারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
"জাতিসংঘের পতাকাতলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি আমরা চিরঋণী। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আবেই (Abyei) অঞ্চলে নিহত শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।" — ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক
নারী নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা
আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীদের সাফল্যের কথা। 'নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা' (WPS) এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বৈপ্লবিক ভূমিকার প্রশংসা করে আবাসিক সমন্বয়কারী জানান, নারী সদস্যদের সাহসিকতা মিশনগুলোর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদার ও ধৈর্যশীল ভূমিকার প্রতিও তিনি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন।
আধুনিকায়নের পথে বাংলাদেশ
কেবল শান্তি রক্ষা নয়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে জাতিসংঘ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। সেনাপ্রধানের সঙ্গে এই বৈঠকে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতিসংঘের এই নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এই সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও শান্তির মেলবন্ধনে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।