উন্নয়ন ও ভ্রাতৃত্বের নতুন দিগন্ত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ওআইসি রাষ্ট্রদূতদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার নিয়ে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিগণ। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সরকারের রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অভিনন্দন ও সংহতি
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক উৎসবমুখর ও আন্তরিক পরিবেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওআইসিভুক্ত ১৮টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা সরাসরি এবং ৩টি দেশের হেড অব মিশন এই সাক্ষাতে অংশ নেন। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূতরা বলেন, বাংলাদেশের এই নতুন অভিযাত্রায় মুসলিম বিশ্ব সবসময় পাশে থাকবে।
সহযোগিতার সাত সোপান
বৈঠকে কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওআইসিভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে নিম্নলিখিত খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে:
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য: মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: উচ্চশিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা বিনিময়ে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি।
শিল্প খাত: বাংলাদেশের শক্তিশালী টেক্সটাইল ও ক্রমবর্ধমান ওষুধ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
শহীদ জিয়ার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যতের রূপরেখা
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়াই বাংলাদেশে ওআইসি ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন:
"আমরা কেবল সরকারি পর্যায়ে নয়, বরং জনগণের সঙ্গে জনগণের (People-to-People contact) সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে চাই। আমাদের ঐতিহ্য এবং বিশ্বাসের বন্ধনই হবে আগামীর উন্নয়নের চালিকাশক্তি।"
রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ব মুসলিমের সমর্থন
মানবিক দিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ওআইসি দেশগুলোর জোরালো কূটনৈতিক সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি জানান, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অপরিহার্য।
উপস্থিত ছিলেন যারা
বৈঠকে সৌদি আরব, মিশর, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব মু. ফরহাদুল ইসলাম এবং ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ওআইসি দেশগুলোর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বিনিয়োগের আগ্রহ বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের গভীর আস্থা ও নতুন কূটনৈতিক সফলতারই বহিঃপ্রকাশ।