মেহনতি মানুষের হাহাকার: ঢাকা-১৫ আসনে তীব্র পানি সংকট নিরসনে রাজপথে ডা. শফিকুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর মিরপুর, মনিপুর আর কাফরুলের প্রতিটি গলিতে এখন একটাই দীর্ঘশ্বাস— 'পানি'। কল ছাড়লে বাতাস বের হয়, কিন্তু তৃষ্ণা মেটানোর এক ফোঁটা বারিধারা মেলে না। ঢাকা-১৫ আসনের বাসিন্দাদের এই চরম ভোগান্তি আর আর্তনাদ শুনতে সোমবার (১১ মে) রাতে সরাসরি ভুক্তভোগীদের আঙিনায় হাজির হলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সংকটের রূপরেখা: হাহাকার যখন নিত্যসঙ্গী
রাত ৮টা। মনিপুর এলাকায় তখন থমথমে অন্ধকার আর পানির জন্য হাহাকার। স্থানীয় বাড়ি মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের সাথে এক আবেগঘন মতবিনিময় সভায় মিলিত হন ডা. শফিকুর রহমান। ভুক্তভোগীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই যেন এক অদৃশ্য অভিশাপে পানি উধাও হয়ে গেছে এলাকা থেকে।
একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, "সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। গোসল তো দূরের কথা, প্রাকৃতিক প্রয়োজনে এক বদনা পানিও মিলছে না। আমাদের কি এভাবেই ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে?" উপস্থিত জনতার আশঙ্কা, স্বার্থান্বেষী কোনো মহল রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে।
সংসদ নেতার আশ্বাস: সমাধানের লড়াই
জনগণের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন ডা. শফিকুর রহমান। সাধারণ মানুষের এই দুর্গতিতে ব্যথিত হয়ে তিনি ঘোষণা দেন, যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট নিরসনে তিনি তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়োগ করবেন। তিনি বলেন,পানির সংকট সমাধানে আমি ইতোমধ্যেই ওয়াসার এমডির সাথে জরুরি ভিত্তিতে কথা বলেছি। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এই বিষয়টি আমি জাতীয় সংসদের পবিত্র ফ্লোরে উত্থাপন করেছি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি এই এলাকার সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন।
তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ে তিনি অতীতেও পাশে ছিলেন, ভবিষ্যতেও রাজপথ ও সংসদে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকবেন।
এ সময় জামায়াত আমিরের সাথে উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা এবং সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকসহ নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন ।
মতবিনিময় সভায় নিজেদের দুঃখগাথা তুলে ধরেন পূর্ব মনিপুর বাড়ি মালিক সমিতির সভাপতি সরোয়ার আলম, কাঁঠালতলা সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম, এবং ইব্রাহিমপুরের আজিম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রাত গভীর হলেও আলোচনার রেশ কাটে না। মিরপুরবাসীর চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—ওয়াসার পাইপ দিয়ে আবারও ঝরঝর করে পড়বে শান্তির জলধারা। আর সেই অধিকার আদায়ে তাদের সেনাপতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন ডা. শফিকুর রহমান।