​এসএসসি পরীক্ষার সপ্তম দিন: ২০ হাজার সিট খালি, বহিষ্কৃত ৮

 প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

​এসএসসি পরীক্ষার সপ্তম দিন: ২০ হাজার সিট খালি, বহিষ্কৃত ৮

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​সারা দেশে বইছে তপ্ত রোদ, আর তার মাঝেই চলছে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা এসএসসির লড়াই। মঙ্গলবার ছিল এই পরীক্ষার সপ্তম দিন। বরাবরের মতো এবারও কেন্দ্রগুলোতে ছিল অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা আর শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা। তবে এই ব্যস্ততার ভিড়েও সারা দেশে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর আসন শূন্য পড়ে ছিল, যা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে।

​এদিন সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। ৯টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ের পরীক্ষা। অন্যদিকে মাদরাসা বোর্ডে ‘ইংরেজি প্রথম পত্র’ এবং কারিগরি বোর্ডে ছিল ‘আত্মকর্মসংস্থান ও ব্যবসায় উদ্যোগ’ বিষয়ের পরীক্ষা। তবে দিনের শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ২০ হাজার ৬০৪ জন পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে আসেনি।

​বোর্ডের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনুপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি ছিল মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে। সেখানে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১৩ হাজার ৮৩৩ জন, যা মোটের ৫.৩৬ শতাংশ। সেই তুলনায় ৯টি সাধারণ বোর্ডে অনুপস্থিতির সংখ্যাটি কিছুটা কম। সাধারণ বোর্ডে মোট ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ৪৬৫ জন (০.৬৭%) পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

​সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে অনুপস্থিতির শীর্ষে ছিল ঢাকা। এই বোর্ডে ৮২৩ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর পরেই ছিল রাজশাহী (৭৪৩ জন), দিনাজপুর (৫৯১ জন), ময়মনসিংহ (৩১২ জন) এবং কুমিল্লা বোর্ড (৩১১ জন)। অন্যদিকে সিলেট বোর্ডে অনুপস্থিতির হার ছিল সবচেয়ে কম, মাত্র ১১৬ জন। এছাড়া কারিগরি বোর্ডেও ৩ হাজার ৩০৬ জন (২.৮৪%) পরীক্ষার্থী এদিন হলের চৌকাঠ মাড়ায়নি।

​পরীক্ষা চলাকালীন অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এ দিন কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। সারা দেশে মোট ৮ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি দেখা গেছে মাদরাসা বোর্ডে, যেখানে বহিষ্কৃত হয়েছে ৭ জন শিক্ষার্থী। সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে কেবল চট্টগ্রামে একজন বহিষ্কৃত হয়েছে, তবে কারিগরি বোর্ডে কোনো বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।

​বোর্ড কর্তৃপক্ষের মতে, বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। জীবন গড়ার এই যুদ্ধে কেন ২০ হাজার স্বপ্ন শুরুতেই থমকে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সব বাধা পেরিয়ে বাকি দিনগুলো সুস্থ ও শান্তিপূর্ণভাবে পার করতে চায় পরীক্ষার্থীরা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement