নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা: ১৩ মে থেকে শুরু হচ্ছে ট্রেনের টিকিট যুদ্ধ
স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের আনন্দ মানেই ধোঁয়া ওঠা সেমাই, নতুন জামা আর পরিবারের সাথে কাটানো পরম মুহূর্ত। কিন্তু সেই খুশির আমেজে মিশে থাকে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার এক দীর্ঘ প্রতীক্ষা। সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীদের জন্য দারুণ খবর নিয়ে এলো বাংলাদেশ রেলওয়ে। এবারও মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং ঈদযাত্রাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে শুরু হচ্ছে অগ্রিম টিকিটের মহোৎসব।
স্বপ্নের টিকিট মিলবে যখন
ক্যালেন্ডারের পাতায় আগামী ১৩ মে তারিখটি দাগিয়ে রাখুন। সেদিন থেকেই শুরু হচ্ছে স্বপ্নের সেই রেল টিকিট সংগ্রহের পালা। প্রতিদিন সকাল ৮টা বাজার সাথে সাথেই রেলওয়ের অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপে হুমড়ি খেয়ে পড়বেন হাজারো ঘরমুখো মানুষ। এবার আর স্টেশনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘাম ঝরানোর ঝামেলা নেই, কারণ রেল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শতভাগ টিকিটই বিক্রি হবে অনলাইনে। আপনার হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন বা ল্যাপটপই হবে এবার আপনার টিকিট কাউন্টার।
টিকিট বিক্রির রোজনামচা
যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রেলওয়ে একটি সূচি তৈরি করেছে। ১৩ মে থেকে পর্যায়ক্রমে আসন্ন ঈদের আগের দিনগুলোর টিকিট পাওয়া যাবে। তবে মনে রাখবেন, অগ্রিম টিকিটের পাশাপাশি ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরার টিকিটেও এবার থাকছে বাড়তি বিশেষত্ব। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের যাত্রার জন্য থাকছে টিকিটের বিশেষ ব্যবস্থা।
পশু পরিবহনে বিশেষ ট্রেন ও ঈদ স্পেশাল
শুধু মানুষ নয়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর হাটের ভিড় সামাল দিতে এবং খামারিদের সহায়তায় ২২ ও ২৩ মে ঢাকা-জামালপুর রুটে চলবে দুটি ‘ক্যাটল স্পেশাল’ ট্রেন। এছাড়াও সাধারণ যাত্রীদের ভিড় সামলাতে রেলের বহরে যুক্ত হচ্ছে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন, যা ঈদযাত্রাকে করবে আরও স্বস্তিদায়ক।
কিছু জরুরি নিয়ম ও সতর্কতা
একজন যাত্রী তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। কালোবাজারি রুখতে এবার কঠোর অবস্থানে রেলওয়ে। তবে মনে রাখবেন, ঈদের বিশেষ টিকিট একবার কেনা হয়ে গেলে তা আর ফেরত দেওয়া বা টাকা রিফান্ড করা যাবে না। যারা অনলাইনে সিট পাবেন না, তাদের জন্য নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। যাত্রার দিন স্টেশনের কাউন্টার থেকে মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি বাদে) ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ‘আসনবিহীন’ বা স্ট্যান্ডিং টিকিট পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে, রেল কর্তৃপক্ষের একটাই চাওয়া—আপনার ঈদযাত্রা হোক নিরাপদ এবং বিড়ম্বনাহীন। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহ করে নিন এবং প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মেতে উঠুন রেলের নিশ্চিন্ত ভ্রমণে।