গণভোটের রায় বাস্তবায়নে রাজপথে থাকবে জামায়াত, জাপানের আদলে গড়া হবে নতুন বাংলাদেশ’
নিজস্ব প্রতিবেদক |
দূরপ্রবাসে থেকেও দেশের প্রতিটি স্পন্দনের সঙ্গে মিশে আছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মঙ্গলবার জাপানের নাগোয়া শহরের সিবুকাওয়া ওয়েলফেয়ার সেন্টারে আয়োজিত এক আবেগঘন নাগরিক সংবর্ধনায় এমনটাই ফুটে উঠল। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইসলামিক মিশন জাপান, নাগোয়া শাখার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসীদের মুহুর্মুহু ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হলরুম।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে গণভোটের রায়কে জনগণের আমানত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই গণভোটের রায় কখনো বিফলে যায়নি। বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যেহেতু এই রায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাই এটি বাস্তবায়ন না করা মানে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করা। বিরোধী দল হিসেবে সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গাতেই এই রায় বাস্তবায়নের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রবাসীরা যেভাবে রেমিট্যান্স শাটডাউনের ডাক দিয়েছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর আবার অর্থ পাঠিয়ে অর্থনীতি সচল করেছেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতে কারাবন্দী ৩৯ জন প্রবাসীর মুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজার সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই দুর্ভোগ কমাতে সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি উন্নত রাষ্ট্র গড়তে হলে সব ধরণের চাঁদাবাজির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।
জাপানের উন্নয়ন মডেলকে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জাপানের মতো করে একটি নৈতিক, শিক্ষিত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়াই তার স্বপ্ন। যেখানে কোনো গুম, খুন, দারিদ্র্য কিংবা দুর্নীতি থাকবে না। তিনি তরুণ সমাজকে এই দেশ গড়ার কাজে অবিচল থাকার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বিনয়ের সাথে বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে নই, আমাদের কোনো ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন, আমরা নিজেদের সংশোধন করে নেব।’ একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিরোধী দল হিসেবে সব ধরণের দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
অনুষ্ঠানে নাগোয়া শহর ও আইচি প্রিফেকচারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, গবেষক, শিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। ড. মাজেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জামায়াত আমিরকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়।