দখলদারদের কবজায় থাকা খাস জমি উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযানের ডাক: জনবান্ধব ভূমি সেবায় হার্ডলাইনে সরকার

 প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

দখলদারদের কবজায় থাকা খাস জমি উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযানের ডাক: জনবান্ধব ভূমি সেবায় হার্ডলাইনে সরকার

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম আর দখলের রাজত্ব অবসানে এক আপসহীন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সরকার। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যারা প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাস জমি গিলে খেয়েছে, তাদের হাত থেকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা এসেছে নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

​এবারের সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভূমি মন্ত্রণালয়ের আমূল পরিবর্তন। মন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, দখলদার ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, রাষ্ট্রের সম্পদ পুনরুদ্ধারে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না। মূলত আইনি মারপ্যাঁচে আটকে থাকা জমিগুলো উদ্ধারে এবার ভূমি ও আইন মন্ত্রণালয় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা ভূমি সংক্রান্ত মামলাগুলোর জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর চিত্র বদলাতে সরকার এখন 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে অটল। সাধারণ মানুষের চিরচেনা আপত্তির জায়গা—'দালাল চক্র' নির্মূলে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদের। মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যেন হয়রানিমুক্ত সেবা পায়, সেটি নিশ্চিত করাই হবে প্রশাসনের প্রধান কাজ।

​একই সুর শোনা গেছে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর কণ্ঠেও। তিনি আগামীর 'স্মার্ট ভূমি সেবা'র চিত্র তুলে ধরে বলেন, ভোগান্তি কমাতে ইতিমধ্যে ভূমি অফিসগুলোকে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চালু হয়েছে ডিজিটাল অ্যাপ এবং হটলাইন। তবে প্রযুক্তির এই সুফল যেন প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদের ওপর।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সম্মেলনের পর পরই সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে খাস জমি উদ্ধারে এক বিশেষ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন আর জনবান্ধব সেবার মাধ্যমে ভূমির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় একটি স্বচ্ছ যুগ শুরুর অপেক্ষায় এখন দেশবাসী। সরকারের এই কঠোর অবস্থান সফল হলে কেবল সরকারের সম্পদই রক্ষা পাবে না, বরং আইনি জটিলতায় ভোগা সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাসেরও অবসান ঘটবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement