স্টেডিয়ামের টয়লেটেও দুর্নীতির থাবা! পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের টাকা চুরিতে ক্ষুব্ধ বিসিবি সভাপতি তামিম

 প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

স্টেডিয়ামের টয়লেটেও দুর্নীতির থাবা! পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের টাকা চুরিতে ক্ষুব্ধ বিসিবি সভাপতি তামিম

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্দরমহলে সংস্কারের যে হাওয়া বইছে, তাতে এবার বেরিয়ে এলো এক চরম লজ্জাজনক ও অমানবিক দুর্নীতির চিত্র। বড় বড় প্রজেক্ট কিংবা কোটি টাকার টেন্ডার নয়, খোদ বিসিবির শৌচাগার পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকা নারী কর্মীদের পারিশ্রমিকের টাকাতেও ভাগ বসানো হচ্ছে। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির নবনিযুক্ত সভাপতি তামিম ইকবাল এই দুর্নীতির জাল উন্মোচন করে রীতিমতো বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

​ঘটনার সূত্রপাত বিসিবির ক্লিনিং সার্ভিস নিয়ে তামিম ইকবালের ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে। বিসিবি প্রতিটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পেছনে প্রতিদিন ৬৫০ টাকা করে বরাদ্দ দিলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করা নারীরা পাচ্ছেন মাত্র ৩০০ টাকা। অর্থাৎ, বরাদ্দের অর্ধেকেরও বেশি টাকা পকেটে ভরছে মধ্যস্বত্বভোগী কোনো গোষ্ঠী বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি জানাজানি হয় যখন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কর্মরত একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরাসরি বিসিবি সভাপতির কাছে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

​সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম ইকবাল বলেন, "আমি শুনে অবাক হলাম যে বিসিবি জনপ্রতি ৬৫০ টাকা দিলেও তারা পাচ্ছে মাত্র ৩০০ টাকা। এটা শুধু দুর্নীতি নয়, এটা জঘন্য একটি কাজ। যারা দিনে তিনশ-চারশ টাকা আয় করেন, তাদের টাকা থেকেও চুরি করতে হবে? এটা ভাবতেই কষ্ট হয়।"

​দুর্নীতির পাশাপাশি স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত দৈন্যদশা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তামিম। ২০০৭ সালে মিরপুর স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর গত ১৯ বছরে সেখানকার ওয়াশরুম বা টয়লেটগুলোতে বড় কোনো সংস্কার হয়নি। বিসিবি সভাপতির কানে এই অভিযোগ কেবল স্থানীয়দের কাছ থেকেই নয়, পৌঁছেছে বিদেশি দর্শকদের কাছ থেকেও। ফিনল্যান্ড থেকে আসা এক নারী পর্যটকের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তামিম জানান, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মাঠে খেলা দেখতে আসা সেই নারীও বিসিবি সভাপতিকে টয়লেটের বেহাল দশা নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

​এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তামিম ইকবাল। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, শ্রমিকদের রক্ত পানি করা টাকা আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না। চলমান নিউজিল্যান্ড সিরিজেই তিনি এর সমাধান চান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তামিম বলেন, "আমি বলেছি ৩০ জন কর্মীকে আমার সামনে ডেকে ৫০০ টাকা করে পারিশ্রমিক দিতে হবে। কোম্পানির লাভের জন্য ১০০-১৫০ টাকা রাখা যৌক্তিক, কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা মেরে দেওয়া বরদাশত করা হবে না। যদি তারা নিয়ম না মানে, তবে চুক্তি বাতিল তো হবেই, সাথে ওই প্রতিষ্ঠানকে আজীবনের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।"

​বিসিবি সভাপতির এমন কঠোর মনোভাব ক্রিকেট পাড়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্ত ও সাধারণ মানুষ আশা করছেন, মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি বিসিবির প্রশাসনিক কাঠামোর এই অন্ধকূপগুলোও এবার পরিষ্কার হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement